২০ বছর আগে সাগর মেলায় নিখোঁজ, রাধিকার খোঁজ মিলল বাংলাদেশে! হ্যাম রেডিওর উদ্যোগে দেশে ফেরানোর তোড়জোড়

প্রায় ২০ বছর আগে তীর্থ ভ্রমণের জন্য গঙ্গাসাগর মেলায় এসে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া রাধিকা আহিরওয়ারের খোঁজ মিলল ওপার বাংলায়। বর্তমানে তাঁকে বাংলাদেশে পাওয়া গিয়েছে এবং দেশে ফেরানোর জন্য জোরকদমে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই কাজে সহযোগিতা করছে হ্যাম রেডিও, ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন।
ভিডিও কলে কথা, চিঠি গেল হাইকমিশনে:
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর হ্যাম রেডিও ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাসের উদ্যোগে ভিডিও কলের মাধ্যমে রাধিকা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা বলানো হয়েছে। রাধিকাকে দেশে ফেরাতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সহযোগিতার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক ভিনিত পুনিয়া, গঙ্গাসাগর মেলা অফিসার আরভিন্দ কুমার মীনা, সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও সহ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছে। তাঁরাও সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
কীভাবে বাংলাদেশে পৌঁছালেন?
জানা গিয়েছে, রাধিকার আসল নাম রাতিয়া আহিরওয়ার। প্রায় ২০ বছর আগে তিনি স্বামী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলা থেকে গঙ্গাসাগর মেলায় এসেছিলেন এবং সেখানেই হারিয়ে যান। কোথায় খোঁজ না পেয়ে সবাই ভেবেছিলেন তিনি মারা গিয়েছেন।
বর্তমানে ওই মহিলাকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের গোলাবাড়ি রেলওয়ে স্টেশনে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে তিনি বাংলাদেশে পৌঁছালেন? হ্যাম রেডিও কর্মকর্তারা মনে করছেন, কিছু বেআইনি ট্রলারে রাতে প্রশাসনের অলক্ষ্যে পূর্ণার্থীরা সাগরে আসতেন। সম্ভবত সেইরকমই কোনও ট্রলারে করেই রাধিকা চলে যান বাংলাদেশে।
পরিবারের আবেগময় প্রস্তুতি:
রাধিকার স্বামী বালীচাঁদ ও এক পুত্র পুরান মারা গিয়েছেন। তাঁর আরেক পুত্র রাজেশ আহিরওয়ার বর্তমানে দিল্লিতে কাজ করেন এবং মাকে ফিরিয়ে আনার জন্য গ্রামে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর মা নিখোঁজ হওয়ার লিখিত অভিযোগও বান্দা থানায় দায়ের করা ছিল।
দীর্ঘ ২০ বছর পর মৃত বলে ধরে নেওয়া প্রিয়জন চোখের সামনে ফিরে আসায় রাধিকার পরিবার ও গ্রামবাসীরা এখন আবেগে আপ্লুত। তারা চোখে দেখে বিশ্বাস করতে চাইছে, তাদের রাধিকা মরেননি।