গরিবোঁ কা মসিহাঁ’ লালু পরিবারকে ঘরছাড়া করার নোটিস! মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই রাবড়ী দেবীর হাতে সরকারি বাংলো ছাড়ার নির্দেশ

বিহারের ভোট ও মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই বড়সড় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদবের পরিবারকে, যারা নিজেদের ‘গরিবোঁ কা মসিহাঁ’ (দরিদ্রের ত্রাতা) বলে দাবি করেন, সরকারি বাংলো খালি করার নোটিস পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যা প্রায় লালু পরিবারের ‘পৈতৃক সম্পত্তি’তে পরিণত হয়েছিল, সেই বাংলো ছাড়ার নোটিস পেয়েছেন লালু-পত্নী তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী।
আর এই নোটিস ইস্যু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ফিরে আসা জেডিইউ-বিজেপি জোট সরকারের সঙ্গে যাদব পরিবারের তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
১০ নম্বর সার্কুলার রোডের দখলবদল!
মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রাবড়ি দেবী পাটনার ভিআইপি এলাকা ১০ নম্বর সার্কুলার রোডের এই বাংলোয় বসবাস করতেন। কিন্তু নতুন নির্বাচিত সরকার তাঁকে সেই বাংলো ছেড়ে দেওয়ার নোটিস দিয়েছে। শুধু রাবড়ি দেবীই নন, রাজ্যের সব বিধায়ক ও প্রাক্তন বিধায়কদেরই তাঁদের সরকারি আস্তানা ছাড়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ২০ বছর ধরে লালু পরিবার এই ১০ নম্বর সার্কুলার রোডের বাংলোয় বাস করছেন। একসময় এই বাড়িই ছিল বিহারি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এবং আরজেডি-র কার্যকলাপের প্রধান কার্যালয়। রাবড়ি দেবী বিরোধী দলনেত্রীর পদমর্যাদার ভিত্তিতে এই বাংলোয় থাকতেন, কিন্তু সেই পদ হারানোর পর তাঁর বাংলো ধরে রাখার আইনি অধিকার নেই।
তেজপ্রতাপ যাদবকেও ছাড়তে হবে বাংলো
লালু-পুত্র তেজপ্রতাপ যাদবও আরেকটি সরকারি বাংলো, ২৬ এম স্ট্র্যান্ড রোডে থাকেন। তাঁকেও সেই বাংলো খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লালুপ্রসাদের পরিবারের ঠিকানা বদলের নোটিস। পাটনার সিভিল লাইন্স এলাকার একেবারে বুকের ওপর থাকা ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ ধাঁচের এই প্রাসাদটিতে রয়েছে বিশাল বাগান, উঁচু পাঁচিল, বিরাট বিরাট ঘর এবং প্রচুর দামি আসবাব। একসময় এই বাড়ি থেকেই চলত আরজেডি-র দাপট। এটি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির লাগোয়া।
নতুন সরকার অবশ্য লালু-রাবড়িকে হার্ডিঞ্জ রোডের ৩৯ নম্বর বাংলো অনুমোদন করেছে। তবে তেজস্বী যাদবের জন্য স্বস্তির খবর, তাঁর একটি সরকারি বাংলো এখনও রয়েছে ১ নম্বর পোলো রোডে, যেখানে তাঁর দফতরও রয়েছে।