সত্যের জয় ও অশুভের বিনাশ! ৬ দিন ধরে চলা চম্পা ষষ্ঠী আসলে কীসের প্রতীক? কেন হলুদ গুঁড়ো অর্পণ করা হয়?

হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুসারে আজ ২৬ নভেম্বর পালিত হচ্ছে পবিত্র চম্পা ষষ্ঠী উৎসব। এটি প্রধানত মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক রাজ্যে অত্যন্ত ভক্তিভরে উদযাপিত হয়। এই উৎসবটি মূলত ভগবান শিবের এক রূপ, খণ্ডোবা-এর পুজো এবং দুষ্ট অসুরদের উপর তাঁর বিজয়কে স্মরণ করে পালিত হয়। এই তিথির প্রধান তাৎপর্য হলো সত্যের জয় এবং জীবনে অশুভ শক্তির বিনাশ।

চম্পা ষষ্ঠী প্রতি বছর মার্গশীর্ষ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসব প্রায় ৬ দিন ধরে চলে, যা অমাবস্যা তিথি থেকে শুরু হয়ে ষষ্ঠীতে শেষ হয়।

চম্পা ষষ্ঠীর মাহাত্ম্য:

বিজয়ের প্রতীক: প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনেই ভগবান শিব মার্তণ্ড ভৈরব বা খণ্ডোবা রূপে মল্ল (Malla) এবং মণি (Mani) নামক দুই দুরাচারী অসুরকে পরাজিত করেছিলেন। এই বিজয়কে স্মরণ করেই চম্পা ষষ্ঠী পালিত হয়, যা ভক্তদের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।

কার্তিকের পুজো: ভারতের কিছু অঞ্চলে এই দিনটি কার্তিকেয় বা সুব্রমণ্য স্বামীর (Lord Kartikeya) পূজার দিন হিসেবেও পরিচিত।

পুণ্য লাভ: ভক্তরা মনে করেন, এই পবিত্র দিনে উপবাস করলে এবং নিষ্ঠা ভরে পুজো-অর্চনা করলে সমস্ত পাপ দূর হয় এবং জীবনে মঙ্গল আসে।

উৎসব ও আচারের দিক:

চম্পা ষষ্ঠী উপলক্ষে ভক্তরা নানা ধরনের আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। অনেকেই এই ছয় দিন ধরে উপবাস (ব্রত) পালন করে থাকেন, যা মনের শুদ্ধি ও ভক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

বিশেষ নৈবেদ্য: ভগবান খণ্ডোবাকে হলুদ, সিঁদুর, বেলপাতা, নারকেল এবং চম্পা ফুল দিয়ে পূজা করা হয়। বিশেষ করে হলুদ গুঁড়ো (স্থানীয় ভাষায় ‘ভাণ্ডারা’) অর্পণ করা এই পুজোর একটি প্রধান অংশ।

খাবার: এই দিনে বিশেষ ধরনের খাবার তৈরি করে দেবতাকে অর্পণ করা হয়, যেমন – রোদগা (গমের আটা দিয়ে তৈরি রুটি) এবং তোম্বরা (বহু শস্যের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি এক ধরনের পদ)।

মন্দির পরিদর্শন: মহারাষ্ট্রের জেজুরি মন্দির সহ বিভিন্ন খণ্ডোবা মন্দিরে এই দিনে ভক্তদের প্রচুর ভিড় দেখা যায়।

সব মিলিয়ে, চম্পা ষষ্ঠী হলো একটি পবিত্র উৎসব যা ভক্তদের মনে সাহস, ধার্মিকতা এবং ইতিবাচকতার বার্তা নিয়ে আসে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty