চাপের মুখে নজির! ২০ দিনে ৭৩২ ভোটারের এসআইআর শেষ করে জেলায় প্রথম পশ্চিম বর্ধমানের বিনিতা কুমারী

কাজ সামলাতে না পেরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেখানে একাধিক বিএলও-এর (বুথ লেভেল অফিসার) আত্মহত্যার চেষ্টা বা কান্নাকাটির অভিযোগ সামনে আসছে, ঠিক সেই সময়েই নজির গড়লেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের সালানপুর ব্লকের বিএলও বিনীতা কুমারী। মাত্র ২০ দিনের মধ্যে স্পেশাল সামারি রিভিশন (এসআইআর)-এর সমস্ত কাজ শেষ করে জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি।

সালানপুর ব্লকের ১১৫ নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে তিনি ৭৩২ জন ভোটারের ফর্ম দেওয়া, জমা নেওয়া এবং লিঙ্ক সমস্যা সত্ত্বেও ডিজিটাইজেশনের সমস্ত কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী কাজের জন্য সালানপুর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনীতা কুমারীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বিনীতা কুমারী গত ৪ নভেম্বর থেকে এসআইআর-এর কাজ শুরু করেন। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এন্যুমারেশন ফর্ম বিলি করা, ফর্ম পূরণ করানো, জমা নেওয়া এবং সেই তথ্যগুলি ডিজিটালি আপলোড করার মতো কঠিন কাজ তিনি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করেন। ২৪ নভেম্বর তিনি বিডিও (ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার)-এর হাতে সম্পূর্ণ ফর্ম তুলে দেন।

পুরস্কার গ্রহণের পর বিনীতা কুমারী বলেন, “আমি সময় নষ্ট না করে প্রথম দিন থেকেই প্রতিটি বাড়িতে গিয়েছি এবং সকলের সহযোগিতায় কাজ শেষ করেছি। লিংকের বিরাট সমস্যা সত্ত্বেও ডিজিটাইজেশনের কাজ সম্পূর্ণ করেছি।”

সালানপুরের বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস বিনীতার হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাঁর ‘অসাধারণ ও নির্ভুল’ কাজের প্রশংসা করেন। আসানসোলের মহকুমাশাসক তথা এআরও বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যও বিনীতা কুমারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি জানান, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এসআইআর-এর কাজ খুব ভালোভাবে এগিয়ে চলেছে এবং বিনীতা প্রথম এই কাজ শেষ করলেন।