সিম ব্যবহার করে অপরাধ হলে দায় মালিকেরই! সাইবার অপরাধ রুখতে বড় পদক্ষেপ Department of Telecom-এর!

সাইবার অপরাধ রুখতে এবার একটি কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকম (DoT)। সোমবার জারি করা এক বিবৃতিতে DoT স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে সিম ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজ হলে, যাঁর নামে সিম নথিভুক্ত, তাঁকেই তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে। সিমের মালিকের অজান্তে অপরাধ হয়েছে—এই যুক্তিতে আর কেউ রেহাই পাবেন না।
গ্রাহকদের জন্য DoT-এর কড়া নির্দেশিকা
DoT জানিয়েছে, এমতাবস্থায় মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আগের থেকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। সাইবার অপরাধের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকতে সংস্থাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে:
EMI নম্বর বিকৃতি বন্ধ: ইএমআই (EMI) নম্বর বিকৃত করা হয়েছে, এমন ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
সঞ্চার সাথী অ্যাপের ব্যবহার: কোনো নতুন ফোন ব্যবহারের আগে সঞ্চার সাথী অ্যাপের সাহায্যে ইএমআই নম্বরটি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিতে হবে। ফোনটি সম্পূর্ণভাবে ভরসাযোগ্য মনে না-হলে তা ব্যবহার করা যাবে না।
সিমের অপব্যবহার: বেআইনি পথে সিম কেনা বা নিজের সিম অন্য কাউকে দেওয়া কিংবা অন্য কারও নামে থাকা সিম ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
মালিকের দায়: বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যদি দেখা যায় কোনো এক ব্যক্তির নামে থাকা সিম কাজে লাগিয়ে অন্য কেউ অপরাধ সংগঠিত করে, সেক্ষেত্রেও আসল মালিককেই অপরাধের দায় নিতে হবে। এই সতর্কতা শুধু ফোনের জন্য নয়, মডেমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
নতুন আইন ও শাস্তির বিধান
DoT বিবৃতিতে ২০২৩ সালের দ্য টেলিকমিউনিকেশনস অ্যাক্ট এবং ২০২৪ সালের টেলিকম সাইবার সিকিউরিটি রুলস-এর কয়েকটি ধারার কথা উল্লেখ করেছে:
EMI বিকৃতিতে শাস্তি: ইএমআই নম্বর বিকৃত করলে তিন বছর পর্যন্ত জেলের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
ডিভাইস তৈরিও বেআইনি: নতুন নিয়ম অনুসারে, ইএমআই নম্বর বিকৃত করা যায়—এমন কোনো ডিভাইস তৈরি করাও বেআইনি।