“আমি বিজেপির পুতুল নই!” রাজনীতি নিয়ে বোমা ফাটালেন কঙ্গনা, তবে কি ছাড়ছেন দল?

রাজনীতি এবং অভিনয়—এই দুই পরিচয়েই এখন সমানভাবে আলোচিত বলিউড অভিনেত্রী তথা রাজনীতিবিদ কঙ্গনা রানাওয়াত। ২০২৪ সালে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে সংসদ ভবনে পা রাখার পর থেকেই তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়ে রাজ্যজুড়ে চর্চা লেগেই রয়েছে। এর পাশাপাশি অনুরাগীদের মনে নিয়মিত প্রশ্ন জাগে, তবে কি তবে পাকাপাকিভাবে অভিনয় দুনিয়াকে বিদায় জানালেন ‘কুইন’? এবার এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং বলিউডে কামব্যাক করার সম্ভাবনা—উভয় বিষয়েই অত্যন্ত খোলামেলাভাবে কথা বললেন কঙ্গনা।
সাক্ষাৎকারে কঙ্গনাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য কি আদতে বিজেপির সরকারি মত, নাকি তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত? এই প্রশ্নের উত্তরে এক বারের জন্যও রাখঢাক না করে অভিনেত্রী সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কোনোভাবেই “বিজেপির পুতুল নন”। তাঁর কথায়, দল বর্তমানে তাঁর পাশে রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতেও পারে। নিজের রাজনৈতিক মতামতকে তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বলেই দাবি করেছেন।
কঙ্গনা জানান, বিজেপির সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক ও বোঝাপড়া স্বাভাবিকভাবেই গড়ে উঠেছে। তবে তার মানে এই নয় যে প্রতিটি বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য দলের নীতি বা মতের সঙ্গে হুবহু মিলে যাবে। রাজনীতিতে তিনি এখনও নিজেকে নবীন বলে মনে করেন এবং প্রতিদিন নতুন জিনিস শিখছেন।
আগামী দিনে নিজেকে কোথায় দেখতে পান—এই প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দেননি কঙ্গনা। তিনি জানান, আগামী ১০ বছর তিনি নিজেকে রাজনীতিতে টিকিয়ে রাখবেন নাকি পুরোপুরি বড় পর্দায় ফিরে যাবেন, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। কারণ বর্তমান সময়ের গতিপ্রকৃতি এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট সচেতন।
তবে অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা যে একেবারেই শেষ হয়ে যায়নি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন কঙ্গনা। তাঁর জোরালো দাবি, আজও ইন্ডাস্ট্রির বহু খ্যাতনামা পরিচালক তাঁকে অত্যন্ত ‘আকর্ষণীয় অভিনেত্রী’ হিসেবে মনে করেন এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকেন। এমনকী, অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেন যে কেন তিনি ইচ্ছে করে সিনেমা জগৎ থেকে দূরে সরে রয়েছেন। অতীতে বলিউডের বেশ কিছু বড় প্রোডাকশন হাউসের অফার যে তিনি নিজেই ফিরিয়ে দিয়েছেন, সে কথাও সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী।
ভবিষ্যতে যদি তিনি রূপোলি পর্দায় ফেরেন, তবে ঠিক কী ধরনের চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে? এই প্রসঙ্গে কঙ্গনা জানান, বর্তমান বয়স, ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর পরিণত অভিনয় দক্ষতার সঙ্গে মানানসই চরিত্র বেছে নেওয়ার পক্ষেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ। সব মিলিয়ে, রাজনীতি ও অভিনয়ের দোলাচলে কঙ্গনার এই মন্তব্য যে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।