৭৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! গ্রামের স্কুলে পড়া, শিক্ষকপুত্র সূর্য কান্ত বসলেন দেশের সর্বোচ্চ আসনে

দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদে ইতিহাস সৃষ্টি হল। সোমবার, বিচারপতি সূর্য কান্ত ভারতের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি (CJI) হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে হিন্দিতে শপথবাক্য পাঠ করান। বিচারপতি সূর্য কান্ত আগামী ২০২৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন।
শপথ অনুষ্ঠানে তারকা সমাগম:
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্পিকার ওম বিড়লা, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্যান্য বর্ষীয়ান সদস্যরা।
হরিয়ানার প্রথম CJI:
বিচারপতি সূর্য কান্তের জন্য এটি এক বিরাট মাইলফলক। এদিন দেশের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বভার নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হলেন হরিয়ানা থেকে প্রথম প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টের ৭৫ বছরের ইতিহাসে কোনো হরিয়ানভি এই সর্বোচ্চ পদ অলঙ্কৃত করেননি।
গ্রাম থেকে বিচারক পদে উত্থান:
বিচারপতি কান্তের জন্ম ১৯৬২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানার হিসার জেলার পেটোয়ার নামের একটি শান্ত-নির্জন গ্রামে। চাষবাস ছিল পরিবারের একমাত্র জীবিকা, কেবল তাঁর বাবা ছিলেন শিক্ষক।
নিজের অতীত স্মরণ করে বিচারপতি কান্ত বলেন, “আমার ছোট থেকে কিশোর বয়স পর্যন্ত কেটেছে পেটোয়ারে। গ্রামেরই সরকারি প্রাথমিক ও হাইস্কুলে ম্যাট্রিকুলেশন পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। স্কুলে পড়ার শেষে চাষের খেতে কাজ করতাম।” তাঁর কথায়, গ্রাম থেকে হিসারে এসেই তিনি প্রথম শহর দেখেন।
আইন বেছে নেওয়ার কারণ:
আইনকেই পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে সূর্য কান্ত বলেছিলেন: “গ্রামের লোকের সঙ্গে খেতখামারে কাজ করতে গিয়ে জীবনের নানা পাঠ পেয়েছি। দেখেছি কী ভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গ্রামের মানুষ তাঁদের অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন। আমার তখনই মনে হয়েছিল, অন্তত একজন কাউকে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো দরকার। আর ঠিক তখনই আমি ভেবে নিয়েছিলাম আইনকেই আমার লড়াইয়ের হাতিয়ার করব।”
কেরিয়ারের উল্লেখযোগ্য দিক:
আইন শিক্ষা: ১৯৮৪ সালে রোহতকের মহর্ষি দয়ানন্দ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পাশ করেন।
সর্বকনিষ্ঠ অ্যাডভোকেট জেনারেল: ২০০০ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তিনি হরিয়ানার সর্বকনিষ্ঠ অ্যাডভোকেট জেনারেল পদে নিযুক্ত হন।
বিচারপতি হিসেবে: ২০০৪ সালে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং ২০১৮ সালে হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন।
সুপ্রিম কোর্টে অবদান: ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টে আসার পর তিনি জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির মতো বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সাংবিধানিক আইন, মানবাধিকার ও প্রশাসনিক ইস্যু সংক্রান্ত প্রায় হাজারখানেক রায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন।
বিচারপতি বিআর গাভাই তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, “আমার মতোই বিচারপতি কান্তও সমাজের সেই শ্রেণির প্রতিনিধি, যারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে লড়াই করে এসেছে। যাঁদের জন্য আইনের রক্ষাকবচ প্রয়োজন, তাঁদের অধিকার তাঁর মতোই একজন মানুষের হাতে সুরক্ষিত থাকবে।”