৩৩ বছরের সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা! ২৫৬ কোটি টাকার সংস্কারে রবিবার সম্পূর্ণ বন্ধ বিদ্যাসাগর সেতু

বিদ্যাসাগর সেতু বা দ্বিতীয় হুগলি সেতু ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর! ৩৩ বছর বয়সী এই সেতুতে বড়সড় সংস্কার কাজের জন্য আগামীকাল, রবিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত অর্থাৎ টানা ৮ ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হবে।
সেতুর তার (Cable) ও বিয়ারিং প্রতিস্থাপন-সহ ব্যাপক সংস্কার প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনারস (HRBC)।
🛠️ কেন বন্ধ হচ্ছে সেতু?
এইচআরবিসি-র ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, দ্বিতীয় হুগলি সেতুর তার প্রতিস্থাপন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল কাজ। এর জন্য পর্যাপ্ত সময়ের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হয়।
প্রকল্পের খরচ: পুরো সংস্কার প্রকল্পের জন্য প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।
কাজের প্রকৃতি: সেতুর প্রতিটি কেবল প্রতিস্থাপনে দীর্ঘ সময় লাগে। যদিও গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রবিবার নির্দিষ্ট সময়ে সেতুর ওপর মেরামত কাজ চলছিল, তবে আট ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ সেতুবন্ধ করার সিদ্ধান্ত এই প্রথম নয়। এর আগেও কাজের প্রয়োজনে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেতুর মেরামত সম্পন্ন করে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
🚗 ট্র্যাফিক রুট বদল: কলকাতা পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা
সেতুবন্ধের সময়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কলকাতা পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিকল্প রুটের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
যে সব গাড়ি বিদ্যাসাগর সেতু ব্যবহার করে হাওড়ার দিকে যেতে চাইবেন, তাদের জন্য নিচের রুটগুলি নির্দেশ করা হয়েছে:
| দিক | বিদ্যাসাগর সেতুর দিকে যাওয়া গাড়ি | বিকল্প ট্র্যাফিক রুট |
| আলিপুর | বিদ্যাসাগর সেতুগামী যানবাহন | হেস্টিংস ক্রসিং-এর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। সেখান থেকে স্ট্র্যান্ড রোড ধরে হাওড়া সেতুর দিকে যেতে হবে। |
| খিদিরপুর রোড | সেতুগামী যানবাহন | ১১ ফার্লং গেট থেকে হেস্টিংস। তারপর স্ট্র্যান্ড রোড হয়ে হাওড়া সেতুর দিকে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। |
| সিজিআর রোড (CGR Road) | ছোট ও ভারী যানবাহন | হেস্টিংস ক্রসিং $\rightarrow$ সেন্ট জর্জ গেট রোড $\rightarrow$ স্ট্র্যান্ড রোড হয়ে গন্তব্যে পৌঁছবে। |
সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে, রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দ্বিতীয় হুগলি সেতু ব্যবহার এড়িয়ে চলার জন্য এবং বিকল্প রুট বেছে নেওয়ার জন্য। প্রয়োজনে প্রধান সড়ক দিয়েও ট্র্যাফিক ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।