বিদ্যুৎ অপচয়, দূষণ ও জলের সংকট আর নয়! গ্রামের সঙ্গে প্রযুক্তির মিশেল ঘটিয়ে কী দেখাল দুই মেধাবী কিশোর?

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে জনজীবনের সঙ্গে মানানসই করে তোলার লক্ষ্যে এক অভিনব স্মার্ট সিটির মডেল তৈরি করে তাক লাগাল মালদহ রেলওয়ে হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির দুই ছাত্র সৃজন রায় এবং ঋষিকেশ চৌধুরী। এই মডেলের মাধ্যমে তারা দেখিয়েছে, কিভাবে একটি গ্রাম বা শহর তার ঐতিহ্যবাহী ধারা বজায় রেখেও বর্তমান যুগের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করতে পারে।
মডেলটিতে বিদ্যুৎ অপচয় রোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মূল পরিকল্পনাগুলির মধ্যে রয়েছে: মোশন সোলার এবং বায়ু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্রিট লাইট জ্বালানো, আবর্জনা ফেলার বাক্সে অটোমেটিক সিগনাল ব্যবস্থা স্থাপন, বায়ু দূষণ এড়াতে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য নিয়মিত চার্জিং স্টেশন তৈরি করা, এবং হাসপাতালে সোলার পদ্ধতি ব্যবহার করে গরম জলের ব্যবস্থা করা। এছাড়াও, প্রতিটি ভবনের সামনে সবুজ উদ্যান বা ‘গ্রিন প্যাচ’ রাখার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
স্কুল ছাত্র ঋষিকেশ চৌধুরী জানান, “এই মডেলের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ স্মার্ট সিটি তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ অপচয় ছাড়াই মানুষের সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য—সবকিছুকে কিভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই একাধিক পরিকল্পনা এই মডেলে রয়েছে। বিদ্যুতের ব্যবহার, জলের সঠিক ব্যবহার, এবং সবুজায়নকে টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনা—সবকিছুই তুলে ধরা হয়েছে।”
বর্তমানে বিভিন্ন দেশে শহর নির্মাণে পরিকল্পনার অভাব দেখা যায়। এই ধরনের মডেলগুলি সোলার প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি, উন্নত হাসপাতাল পরিষেবা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে, যা ভবিষ্যতের স্মার্ট শহর তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।