সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অবিচল বাংলাদেশ দিল্লিতে জানালেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অবিচল থাকবে। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনায় এই কথা বলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে যোগদান:
কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে (Colombo Security Conclave) যোগ দিতে মঙ্গলবার রাতে দিল্লি আসেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা। বুধবার তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
বৃহস্পতিবার কমক্লেভে খলিলুর রহমান এবং অজিত ডোভাল দুজনেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করার পক্ষে সওয়াল করেন। এই কনক্লেভে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও মরিশাসও অংশ নিয়েছে। ভারত মহাসাগরকে ঘিরে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বোঝাপড়া আরও নিবিড় করার লক্ষ্যে এই কনক্লেভের আয়োজন করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ ও বাংলাদেশের অবস্থান:
ভারতের রাজধানীতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা এবং পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপের আবহে ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলির এই বৈঠকটি বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে। অতীতে একাধিক জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন করে ভারত বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলি বাংলাদেশে সক্রিয় হচ্ছে বলে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার দিল্লির কনক্লেভে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ যে কোনও পরিস্থিতিতে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভারত মহাসাগর:
ভারত ও বাংলাদেশ—দু দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাই ভারত মহাসাগরকে অর্থনীতির মেরুদণ্ড বলে উল্লেখ করে বলেন, এই ব্যাপারে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির পথ রচনা করতে হবে।
খলিলুর রহমান তাঁর ভাষণে অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। এই ব্যাপারে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও তিনি উল্লেখ করেন।