সোয়াইন ফ্লু নিয়ে বড়সড় সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের! সুস্থ মানুষও কখন মৃত্যুর মুখে পড়েন?

দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সোয়াইন ফ্লু (Swine Flu)। তবে এই মারণ ভাইরাসের চরিত্র নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। একই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরেও দেখা যাচ্ছে, কারও ক্ষেত্রে সর্দি-কাশির মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিয়েই তা সেরে যাচ্ছে, আবার কারও ক্ষেত্রে এই রোগই একেবারে প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। কেন এমন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া হয় শরীরে?

সোয়াইন ফ্লু কীভাবে শরীরে আক্রমণ করে?

ফুসফুসের গভীরে হানা: সাধারণ ফ্লু সাধারণত নাক ও গলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু H1N1 ভাইরাস সোজা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে।

সাইটোকাইন স্টর্ম (Cytokine Storm): ভাইরাস যখন ফুসফুসের গভীরে পৌঁছায়, তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। এর ফলে ফুসফুসের বায়ুথলিগুলি তরলে পূর্ণ হয়ে যায় এবং নিউমোনিয়া ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যায়।

ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ: ভাইরাসের আক্রমণে শরীর আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়লে, নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া সহজেই শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
চিকিৎসকদের মতে, বয়স্ক ব্যক্তি, ছোট শিশু, গর্ভবতী নারী এবং আগে থেকেই ডায়াবেটিস বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীরা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হিমশিম খান। তবে শুধু এঁরাই নন, সুস্থ ও সবল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই সংক্রমণ বিপজ্জনক আকার ধারণ করতে পারে।

সচেতনতা ও বাঁচার উপায়:
সবচেয়ে বড় বিপদ হলো চিকিৎসায় দেরি করা। উপসর্গ দেখা দেওয়ার প্রথম দুই দিনের মধ্যে সোয়াইন ফ্লুর ওষুধ খাওয়া শুরু করলে ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। তাই শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা ঠোঁট-মুখ নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলেই অবহেলা না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এই সংক্রমণ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে টিকা নেওয়া।