জঙ্গলমহলে আর চিন্তা নেই! ৩২ ধরনের রক্ত পরীক্ষা, ওষুধ আর ডাক্তার—সবকিছুই এবার বাড়ির দরজায়

আর ছোটখাটো কারণে দূর দূরান্তের হাসপাতালে ছুটতে হবে না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুসারে, এবার প্রত্যন্ত জঙ্গলমহল সহ মেদিনীপুর জেলায় মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা। শালবনি সহ একাধিক এলাকায় মোট দশটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করেছে মেদিনীপুর পৌরসভা।

সোমবার মেদিনীপুর পৌরসভার সামনে থেকে এই পরিষেবার সূচনা করেন পৌরপ্রধান সৌমেন খান। বিভাগীয় সিআইসি ইন্দ্রজিৎ পানিগ্রাহী সহ অন্যান্য পদস্থ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হল—শহরের প্রত্যেক নাগরিককে সহজে, দ্রুত এবং সুলভে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া। বিশেষত প্রবীণ এবং কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য এটি এক বড় স্বস্তি।

চলমান মিনি হাসপাতাল: কী কী সুবিধা মিলবে?

এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্রগুলি আসলে একটি করে চলমান ছোট হাসপাতালের মতোই কাজ করবে। প্রতিটি ভ্যানে থাকছেন যোগ্য চিকিৎসক এবং প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট। রোগীদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখানে কোনও ভিড় বা ঝামেলা ছাড়াই ৩২ রকমের ব্লাড টেস্ট করানোর সুযোগ থাকবে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি, লিভার সহ নানা জরুরি স্বাস্থ্যপরীক্ষা আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে করা যাবে।

মেদিনীপুর পৌরসভা জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সূচী মেনে এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্রগুলি প্রতিটি ওয়ার্ডে যাবে। প্রয়োজনে বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্পেরও আয়োজন করা হবে। বাড়ির কাছেই রক্ত পরীক্ষা, চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার এই মানবিক পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো।