৬ ডিসেম্বর মেয়ো রোডে তৃণমূলের সংহতি দিবস, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করবেন মমতা-অভিষেক!

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার, কলকাতার মেয়ো রোডে গান্ধিমূর্তির পাদদেশে সংহতি দিবস পালন করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

সমাবেশের দায়িত্বে যুব ও ছাত্র সংগঠন:

শাসক দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়েছেন, সংহতি দিবসের এই কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান এবারও মেয়ো রোডে অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রতিবছর সংখ্যালঘু সেল এই সমাবেশের আয়োজন করলেও, এই বছর সমাবেশের মূল দায়িত্বে থাকছে দলের যুব ও ছাত্র সংগঠন

বিজেপিকে নিশানা করার সম্ভাবনা:

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংহতি দিবসের এই মঞ্চটিকে মমতা-অভিষেক বিজেপিকে নিশানা করার জন্য বেছে নিতে পারেন। তাঁরা মনে করছেন, এই সভা থেকেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার কার্যত শুরু করে দিতে পারে শাসক দল। এসআইআর (Special Intensive Revision)-কে সামনে রেখে তৃণমূলের দুই শীর্ষ-নেতা আরও একবার বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করার অভিযোগ তুলবেন।

  • বার্তার মূল বিষয়: নেতারা ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের জোরালো বার্তা দিতে পারেন। পাশাপাশি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করার বার্তাও দিতে পারেন তাঁরা।

সকল ধর্মের প্রতিনিধির উপস্থিতি:

প্রতি বছরের মতো এই বছরের সমাবেশেও তৃণমূল নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে তৃণমূল যে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চায়, সেই বার্তাই সমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কর্মসূচি নির্ধারণের ইঙ্গিত:

তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রতি বছর মুখ্যমন্ত্রী প্রায় নিয়ম করেই এই সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। তবে এবার দলের যুব ও ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বে এই সভা হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের সারা বছরের কর্মসূচি নির্ধারিত হয়। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শাসক দল কোন পথে প্রচার করবে এবং বিজেপিকে কী কৌশলে নিশানা করা হবে, তা মেয়ো রোডে সংহতি দিবসের অনুষ্ঠান থেকে স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে মমতা এবং অভিষেক ঠিক কী বার্তা দেন, তা শুনতে বিভিন্ন জেলা থেকে ঘাসফুলের কর্মী-সমর্থকরা হাজির হবেন।