চিকিৎসক ভাই-বোন জঙ্গি-যোগ! দিল্লি কাণ্ডে লখনউয়ে ডঃ পারভেজ়ের বাড়িতে ATS হানা

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্তে এবার সামনে এলো নতুন মোড়। বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ধৃত চিকিৎসক শাহিনা শাহিদের ভাই ডঃ পারভেজ় আনসারির বাড়িতে তল্লাশি চালালো উত্তরপ্রদেশের অ্যান্টি টেররিজ়ম স্কোয়াড (ATS)। এই তল্লাশির পর প্রশ্ন উঠেছে, লালকেল্লার বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে কি শাহিনা শাহিদের ভাই পারভেজ় আনসারিও জড়িত?
মঙ্গলবার লখনউয়ের মুত্তাকিপুর এলাকার আইআইএম রোডের বাসিন্দা পারভেজ় আনসারির বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। পারভেজ়ও পেশায় একজন চিকিৎসক। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে দিল্লির বিস্ফোরণের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগসূত্র আছে কি না।
ফরিদাবাদ যোগ ও দুই চিকিৎসকের গ্রেফতার
সোমবারই হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে প্রায় ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়, এবং এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সন্ধ্যায় লালকেল্লা এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ফরিদাবাদের একটি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকা দুই চিকিৎসক, শাহিনা শাহিদ এবং কাশ্মীরের চিকিৎসক মুজাম্মিল গানাই ওরফে মুসাইবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জইশের মহিলা শাখা: ‘জামাত-উল-মোমিনাত’
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ধৃত শাহিনা শাহিদকে জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-কে ভারতে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে আর কারা এই কাজে যুক্ত, তা জানতে দেশের একাধিক জায়গায় জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা।
ডঃ পারভেজ়ের বাড়ি থেকে কী উদ্ধার হলো?
লখনউয়ের অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমোল মুর্কুট জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ডঃ পারভেজ় আনসারির বাড়িতে যখন অভিযান চলে, সেই সময়ে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এর ফলে ATS-এর আধিকারিকরা বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান।
লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার এসিপি সৈয়দ আরিব আহমেদ জানান, ওই চিকিৎসকের বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। ডিভাইসগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। লালকেল্লার বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁর কোনও সংযোগ আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ডঃ পারভেজ় আনসারি একাই বাড়িতে থাকতেন এবং তিনি খুব একটা কারও সঙ্গে মেলামেশা করতেন না।
এই বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তভার বর্তমানে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-কে দেওয়া হয়েছে এবং সূত্রের খবর, এই নাশকতার সঙ্গে একাধিক চিকিৎসকের জড়িত থাকার যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে।