৩ বছর ধরে দিল্লিতে ডাক্তার! মুজাম্মিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ মানতে নারাজ পরিবার, ছেলেকে দেখা করতে না দেওয়ায় উদ্বেগ

হরিয়ানার ফরিদাবাদে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীরের ডাক্তার মুজাম্মিল শাকিলের গ্রেপ্তারি নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ছেলে দিল্লির বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুজাম্মিলের মা নাসিমা।

নাসিমা এএনআই-কে জানান, “ও প্রায় চার বছর আগে বাড়ি ছেড়েছিল। দিল্লিতে ডাক্তার হিসেবে কাজ করত। এই সময়ে ওর সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনও খবর ছিল না। যখন ওকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন আমরা অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারি।” তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের ছেলেকে দেখা করার অনুমতি দিচ্ছে না। নাসিমা বলেন, “ওরা বলছে আমার ছেলে নাকি দিল্লি বিস্ফোরণের সন্দেহভাজন। আমি এসবের কিছুই জানি না। আমি শুধু আমার দুই ছেলের মুক্তি চাই।”

মুজাম্মিলের ভাই আজাদ শাকিল উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তাঁর ভাই গত তিন বছর ধরে দিল্লিতে ডাক্তার হিসেবে কাজ করছেন এবং প্রতি বছর দুবার বাড়িতে আসতেন।

জম্মু ও কাশ্মীর এবং হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই অভিযুক্ত ডঃ মুজাম্মিল এবং আদিল রাঠেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদিল রাঠেরকে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদিল রাঠেরের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই ডঃ মুজাম্মিলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়।

ফরিদাবাদের সিপি সতেন্দর কুমার গুপ্তা উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন:

দাহ্য পদার্থ: ৮টি বড় স্যুটকেস, ৪টি ছোট স্যুটকেস এবং একটি বালতি থেকে প্রায় ৩৬০ কেজি দাহ্য পদার্থ উদ্ধার হয়েছে, যা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এটি আরডিএক্স নয়।

অস্ত্র: একটি অ্যাসাল্ট রাইফেল (একে-৪৭ এর মতো, কিন্তু ছোট) সঙ্গে ৩টি ম্যাগাজিন এবং ৮৩টি জীবন্ত রাউন্ড, একটি পিস্তল সঙ্গে ৮টি জীবন্ত রাউন্ড, দুটি অতিরিক্ত ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে।

অন্যান্য সামগ্রী: ২০টি টাইমার সঙ্গে ব্যাটারি, ২৪টি রিমোট, প্রায় ৫ কেজি ভারী ধাতু, ওয়াকি-টকি সেট এবং বৈদ্যুতিক তার-সহ অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ডঃ মুজাম্মিল হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসক ছিলেন। এই যৌথ অভিযান পনেরো দিন ধরে চলছিল বলে জানা গিয়েছে।