ডিম নিয়ে পুরনো ধারণা ভুল! দিনে কটা ডিম খাওয়া নিরাপদ? বিশেষজ্ঞরা যা বললেন

ডিম—প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, বি এবং বি-টুয়েলভের এক দারুণ উৎস। আজকাল বেশিরভাগ চিকিৎসকই সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় ডিম রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রাকৃতিকভাবে যেসব খাবারে সবচেয়ে বেশি পুষ্টিকর উপাদান পাওয়া যায়, ডিম তাদের মধ্যে অন্যতম। এতে রয়েছে লুটেইন ও যিয়াস্যানথিন-এর মতো উপাদান, যা বয়সকালে চোখের ক্ষতি প্রতিরোধে বিশেষভাবে সহায়ক।

সম্প্রতি ডিমের দৈনিক সেবন এবং কোলেস্টেরল নিয়ে চলে আসা পুরনো ধারণা ভেঙে দিয়েছে নতুন গবেষণা।

✅ ডিম নিয়ে নতুন ভাবনা: দিনে কটা ডিম নিরাপদ?
দীর্ঘদিন ধরেই ডিমকে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানোর কারণ হিসেবে দেখা হতো এবং সপ্তাহে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতো। তবে সেই ধারণা থেকে সরে এসেছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের ড. ফ্র্যাঙ্কি ফিলিপস্ স্পষ্ট জানিয়েছেন:

“দিনে একটা – এমনকি দুটো ডিমও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। বেশি ডিম খাওয়ায় ভয়ের কোনো কারণ নেই।”

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্রিটিশ হার্ট ফাউণ্ডেশন (British Heart Foundation) তাদের পুরনো পরামর্শ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ২০০৭ সালে তারা সপ্তাহে তিনটির বেশি ডিম না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। তবে নতুন গবেষণা এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তারা এই বিধিনিষেধ বাতিল করেছে।

⚠️ তবে প্রোটিন নিয়ে সতর্কবার্তা
ডিম নিঃসন্দেহে প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে চিকিৎসকদের মতে, এক্ষেত্রে একটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে: অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ।

আমরা অন্যান্য খাবার (যেমন মাংস, মাছ, ডাল) থেকেও প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করি। অনেক সময় এই প্রোটিনের পরিমাণ শরীরের দৈনিক চাহিদার তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি হয়ে থাকে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে তা কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সুতরাং, ডিম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং পরিমিত পরিমাণে এটি গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে যেকোনো একটি বিশেষ খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে না খেয়ে, একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকা বজায় রাখা এবং শরীরের দৈনিক পুষ্টির চাহিদার দিকে নজর রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।