KIFF-এ জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধা! ঋত্বিক ঘটক স্পেশ্যাল—’তিতাস’ থেকে ‘মেঘে ঢাকা তারা’, দেখুন আজ ও আগামীকালের স্ক্রিনিং তালিকা

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) দ্বিতীয় দিন সকালে নন্দন ১-এ প্রবাদপ্রতিম পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ প্রদর্শিত হল। পরিচালককে তাঁর জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা জানাতে এই বিশেষ স্ক্রিনিং-এ উপস্থিত ছিলেন ছবির প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান, গৌতম ঘোষ এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

‘তিতাস’ নির্মাণের নেপথ্য কাহিনি:

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান জানান, ১৯৬২ সালে ছবিটি বানানোর দশ বছর পর, ১৯৭২ সালে অসুস্থ ঋত্বিক ঘটককে দিয়ে বাংলাদেশে ছবি করানো ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি, বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি, আর ওঁর মতো একজন সিম্পল মানুষকে সামলাতে পারব না? এই কারণে আমি ছবিটা করেছি।”

ঘাপলাবাজির এক মজার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম দিনের শুটিং বাতিল হলেও, পরিচালক কৌশলে সেই কর্মীদের পারিশ্রমিক পাইয়ে দিয়েছিলেন।

ঋত্বিকের সঙ্গে এক বছর:

অসুস্থ পরিচালকের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা বলতে গিয়ে হাবিবুর রহমান খান জানান, তিনি টানা এক বছর ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গেই ছিলেন—শান্তিনিকেতন থেকে সাঁইথিয়া, এমনকি মুম্বই পর্যন্ত। তিনি ব্যাগে পরিচালকের ওষুধ বহন করতেন, তাঁর খাবার নিজে পরিবেশন করতেন। তিনি বলেন, “কত ঝগড়া হত ওঁর সঙ্গে। বলতেন, আমি যদি ছবিটা শেষ না করি তুই কী করবি?”

পরিচালকের শিল্পসত্তা প্রসঙ্গে তিনি এক অবিস্মরণীয় ঘটনা তুলে ধরেন: “একবার তিতাসের লোকেশন দেখতে যাচ্ছি, তিতাস নদীর সামনে গাড়ি থামাতে বললেন। হাঁটু জলে নেমে উনি মুখের মধ্যে জল নিচ্ছিলেন। এটা কী করছেন প্রশ্ন করতে তিনি বলেন, ‘আমি অনুভূতি নিচ্ছি যে আমি তিতাসে দাঁড়িয়ে আছি।'”

উৎসবের পরের আকর্ষণ:

এই চলচ্চিত্র উৎসবে ঋত্বিক ঘটকের একাধিক ছবি সহ একগুচ্ছ বাংলা সিনেমা দেখানো হবে। আগামীকাল, ৮ নভেম্বর সকাল ১১টায় রাধা স্টুডিয়োতে দেখানো হবে ঋত্বিক ঘটকের ‘অযান্ত্রিক’। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রদর্শিত হবে তাঁরই পরিচালিত ‘মেঘে ঢাকা তারা’। একই সন্ধ্যায়, নন্দন ১-এ সন্ধ্যা ৭টায় দেখানো হবে সত্যজিৎ রায়ের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’। এছাড়াও, রবীন্দ্র সদনে রাজা চন্দর ‘হালুম’, বিকেল ৪টেয় অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়ের ‘৮’ এবং নজরুল তীর্থ ২-এ বিকেল ৫টায় রুদ্রজিৎ রায়ের ‘পিঞ্জর’ প্রদর্শিত হবে।