‘ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতিতে ছট মাইয়াকেও অপছন্দ’! আরারিয়া ও ভাগলপুরে মোদির আক্রমণ, নীতীশ কুমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ যখন কমবেশি ৬০ কিলোমিটার দূরে চলছিল, ঠিক তখনই পাশের জেলাগুলিতে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রচারে ঝড় তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আরারিয়া এবং ভাগলপুরের জনসভা থেকে তিনি সরাসরি কংগ্রেস ও আরজেডি-কে অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি ‘দুর্বলতা’ এবং হিন্দু দেবদেবীদের ‘অপছন্দ’ করার প্রশ্নে তীব্র আক্রমণ শানান।

তবে প্রথম দফার ভোটের দিন এভাবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির।

মোদি: রাম, ছট মাইয়া এবং জঙ্গলরাজ
দুটি সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মূল সুর বাঁধেন ‘অনুপ্রবেশ’ এবং ‘ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি’র মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করার অভিযোগ দিয়ে।

অনুপ্রবেশ ও দেবদেবী: মোদি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস এবং আরজেডি ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে ভগবান রাম থেকে শুরু করে ছট মাইয়া (ছটি মাইয়া)-কেও অপছন্দ করে। তাঁর দাবি, অযোধ্যায় নবনির্মিত রামমন্দির দর্শন করতেও বিরোধীদের আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, উন্নয়নের সুফল সকলের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার পথে অনুপ্রবেশই সবচেয়ে বড় সমস্যা।

জঙ্গলরাজ: আরারিয়ার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বিহারে আরজেডি-র ১৫ বছরের ‘জঙ্গলরাজ’ (১৯৯০ থেকে ২০০৫) নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে বলেন, এনডিএ-র শাসনেই বিহার ‘জঙ্গলরাজ’ থেকে বেরিয়ে সুশাসনের পথে এসেছে।

ভাগলপুরের সভা থেকে মোদি ১৯৮৯ সালের ভয়াবহ দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, সেই সময় রাজ্যে কংগ্রেসের সরকার ছিল এবং এই পাপ তারা কোনওদিন মুছে ফেলতে পারবে না।

শাহ-রাজনাথের আক্রমণ রাহুলকে
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি, এনডিএ-র অন্যান্য হেভিওয়েট নেতারাও বিরোধীদের উপর আক্রমণ জারি রেখেছেন।

অমিত শাহের ভবিষ্যদ্বাণী: বেতিয়ার সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচনের ফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন। তিনি বলেন, “১৪ নভেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে লালু প্রসাদ যাদব আর রাহুল গান্ধির দলের পরাজয় নিশ্চিত হবে।”

সেনা নিয়ে মন্তব্যে তোপ: একদিন আগেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করেন। সম্প্রতি রাহুল দাবি করেছিলেন যে, সেনা বাহিনীর মাত্র দশ শতাংশ উচ্চবর্ণের প্রতিনিধি এবং তারাই বাকিদের নিয়ন্ত্রণ করে। রাজনাথ সিং মনে করেন, “এই ধরনের মন্তব্য করে রাহুল সেনাবাহিনীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছেন।”

বিজেপির আমলে পিছিয়ে পড়া শ্রেণিকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে রাহুলের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজনাথের এই পাল্টা তোপ নির্বাচনী বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।