জন্মের শংসাপত্রেই ‘ভোটার জালিয়াতি’! SIR-এর মধ্যেই কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ শুভেন্দুর, রিপোর্ট চেয়ে চিঠি!

রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার মূল পর্ব চলাকালীনই এক গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে সন্দেহভাজন নাম মুছে যাওয়ার আশঙ্কায় কলকাতা পুরসভা (KMC) বেআইনিভাবে জন্মের শংসাপত্র বিলি করছে, যা ভোট জালিয়াতির একটি বড় চক্রান্ত।

দু’দিন আগেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO)-এর দফতরে এই মর্মে অভিযোগ জানিয়ে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক ভুয়ো জন্মের শংসাপত্র বানিয়ে দিচ্ছে, যাতে মৃত ভোটারকে জীবিত দেখানো যায় এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানো যায়।

শুভেন্দুর আরটিআই ও কমিশনারকে চিঠি
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন যে, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করার নির্লজ্জ প্রয়াস চলছে।” কলকাতা পুরসভার স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই ‘অবৈধ কাজ’-এর তথ্য জানতে তিনি ইতিমধ্যেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছেন:

১. আরটিআই (RTI) আবেদন: কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরে গত ৩০ দিনের মধ্যে দেওয়া সমস্ত জন্মের শংসাপত্রর বিস্তারিত তথ্য চেয়ে তিনি আরটিআই আবেদন করেছেন। ২. পুর কমিশনারকে চিঠি: পুর কমিশনারকে তিনি সরাসরি চিঠি লিখে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত জারি হওয়া জন্মের শংসাপত্রর তুলনামূলক পরিসংখ্যান চেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের ওই সময়ের তথ্যও চেয়েছেন যাচাইয়ের জন্য।

চারটি বিষয়ে জরুরি তথ্য তলব
শুভেন্দু অধিকারী চিঠিতে মূলত চারটি বিভাগে তথ্য চেয়েছেন:

মোট কতগুলি জন্মের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার (KMC) এলাকার বাইরে বসবাসকারীদের দেওয়া জন্মের শংসাপত্রর সংখ্যা।

২০০৭ সালের আগে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ‘লেট রেজিস্ট্রেশন’-এর সংখ্যা।

সদ্যোজাতদের জন্মের শংসাপত্রর সংখ্যা।

আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনে আবেদন
বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ১৯৬৯ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনের বিধি লঙ্ঘনের যে কোনও প্রচেষ্টা সহ্য করা হবে না। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই ‘অবৈধ কাজ’-এর তদন্ত শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই গুরুতর অভিযোগের পর স্বাভাবিকভাবেই কলকাতা পুরসভা ও রাজ্যের শাসক দলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হলো।