বাংলার মঙ্গল কামনায় সাইকেলে বৃন্দাবন! পটাশপুরের রাজমিস্ত্রি সুব্রত ঘোড়াইয়ের সুদীর্ঘ ভক্তি ও মানবিকতার যাত্রা

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর দুই ব্লকের সুকাখোলা মল্লিকপুর গ্রামের যুবক সুব্রত ঘোড়াই এক অভূতপূর্ব ও মানবিক যাত্রা শুরু করেছেন। পেশায় রাজমিস্ত্রি সুব্রত, বাংলার মানুষের সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় সাইকেলে চেপে সুদূর বৃন্দাবনের পথে পাড়ি দিয়েছেন।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অগাধ ভক্তি থেকেই তাঁর এই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ পেল।
একাকী সাইকেল যাত্রা: সুব্রত তাঁর গ্রাম সুকাখোলা মল্লিকপুর থেকেই যাত্রা শুরু করেছেন। তিনি প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পথ সাইকেলে অতিক্রম করছেন।
সহায়তা: এই ভ্রমণে তিনি কোনো বাহ্যিক সহযোগিতা বা বিলাসিতা নিচ্ছেন না। তাঁর সঙ্গে রয়েছে একটি ছোট ব্যাগ, যাতে আছে প্রয়োজনীয় কাপড়, শুকনো খাবার এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম।
পথচলার নীতি: সাধারণ মানুষের সাহায্য, মন্দিরে আশ্রয় এবং নিজের অধ্যবসায়ই তাঁর একমাত্র সঙ্গী। তাঁর বিশ্বাস, “যেখানে ভগবানের ইচ্ছে, সেখানে বাধা মানে পরীক্ষা মাত্র।”
যাত্রার লক্ষ্য ও মানবিক বার্তা: সুব্রত ঘোড়াইয়ের এই যাত্রার মূল লক্ষ্য শুধু ধর্মীয় ভক্তি প্রকাশ নয়, সমাজের প্রতি একটি মানবিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তাঁর কথায়, “আমি খ্যাতি চাই না, শুধু বাংলার মানুষের মঙ্গল কামনায় এই যাত্রা করছি। ভগবানের আশীর্বাদে সবাই যেন ভাল থাকে – এই আমার প্রার্থনা।”
যাত্রাপথ: পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম পার করে সুব্রত ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ হয়ে অবশেষে বৃন্দাবনে পৌঁছবেন। পথে তিনি যেখানেই বিশ্রাম নিচ্ছেন, সেখানকার মানুষের সঙ্গে ভগবানের নাম, ভালবাসা এবং মানবিকতার বার্তা ভাগ করে নিচ্ছেন। বৃন্দাবনে পৌঁছে প্রেমচাঁদ মহারাজের সঙ্গে দেখা করাই তাঁর পরম প্রাপ্তি হবে বলে তিনি আশা করেন।
সুব্রতর এই সাহস, ভক্তি ও মানবিক উদ্যোগ এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রথমে চিন্তিত হলেও বর্তমানে তাঁর পরিবার ও গ্রামের মানুষও গর্বিত এবং তাঁর নিরাপদ যাত্রার জন্য প্রার্থনা করছেন।