‘সময় থাকতে শুধরে যান, না হলে বিহারের মতো জেলে যাবেন’! BLO-দের কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ চলাকালীনই বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) বিরুদ্ধে তৃণমূলের তাঁবেদারি করার বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। হুগলির খানাকুলে দলীয় পতাকা নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে BLO-দের বাড়ি বাড়ি ঘোরার অভিযোগ ওঠার পর তিনি রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিলেন।

বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়ায় এক কর্মসূচির ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী BLO-দের প্রতি কড়া বার্তা দেন।

BLO-দের প্রতি শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি: হুগলির খানাকুলের ঘটনা তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অবিলম্বে এই সমস্ত বিএলও-দের কাছে কারণ জানতে চাওয়া উচিত নির্বাচন কমিশনের। যদি তাঁরা স্বেচ্ছায় করে থাকে তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) হওয়া উচিত। আর যদি চাপের কাছে নতিস্বীকার করে থাকেন তাহলে তাঁদের উপর যারা চাপ সৃষ্টি করল তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর হওয়া উচিত।”

তিনি এরপর রাজ্যের সমস্ত BLO-দের উদ্দেশে আরও কঠোর বার্তা দেন:

“আবারও বলছি বিএলও-রা তৃণমূলের চাপে যেটা করছেন সেটা ভুল করছেন। একদমই ভুল করছেন। আপনাদের শুভাকাঙ্খী ও পরামর্শদাতা হিসেবে একটাই কথা বলব, বদলে যান আপনারা। ইতিমধ্যে বিহারে ৫২ জন বিএলও জেলে রয়েছেন। ৪৩২ জনের নামে এফআইআর হয়েছে।”

বিরোধী দলনেতা পরামর্শ দেন, যদি কোনো BLO চাপের কারণে কাজ করতে অপারগ হন, তবে কে চাপ দিল তার বিরুদ্ধে যেন এফআইআর করেন। অন্যথায় রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে তৃণমূলের হয়ে কাজ করলে, নির্বাচন কমিশনের উচিত সেই BLO-র বিরুদ্ধে এফআইআর করা।

কী ঘটেছিল খানাকুলে? হুগলির খানাকুলের মাড়োখানায় বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মাড়োখানা পঞ্চায়েত এলাকার ২৯২ নম্বর বুথে BLO সরিফুল মোল্লা হক বাড়ি-বাড়ি ঘুরছেন। অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি আব্বাস আলি-সহ তৃণমূল কর্মীরা। BLO যে বাড়িতেই যান, সেখানে দলীয় পতাকা নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষের অভিযোগ, “তৃণমূল ভয় পেয়ে BLO অফিসারদার-কে জোর করে বুথে বুথে ঘোরাচ্ছে। তৃণমূল চায় ভুতুড়ে ভোটার ও বাংলাদেশি ভোটার থাকুক। তাহলেই ক্ষমতায় থাকতে পারবে তৃণমূল।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ: অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘SIR থেকে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাওয়ের’ হুঁশিয়ারিকে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ও’র কথার কোনো দাম নেই। ও’র পাশ থেকে পুলিশ সরে গেলে আর পিসি প্রাক্তন হয়ে গেলে ও’র দিকে কেউ তাকাবে না।”

নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর নেতৃত্বে একটি দল বৃহস্পতিবার রাজ্যে পৌঁছবে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তাঁর দল অভিযোগ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।