‘আমি স্বপ্নেও ভাবিনি বিশ্বজয়ী হবে’! মেয়ের চোখেই স্বপ্ন দেখেছিলেন বাবা, শিলিগুড়ির মেয়ে রিচা ঘোষকে বরণ করতে চরম উন্মাদনা

প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্য, শিলিগুড়ির মেয়ে রিচা ঘোষের ঐতিহাসিক সাফল্য নিয়ে গোটা বাংলা এখন গর্বিত। তবে, ২২ বছরের রিচা যে কোনোদিন এমন উচ্চতায় পৌঁছবেন, তা ভাবতেই পারেননি তাঁর বাবা মানবেন্দ্র ঘোষ। তিনি জানালেন, তাঁর মেয়েই তাঁকে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল।
বুধবার রিচার বাবা-মা মুম্বই থেকে শিলিগুড়ি ফিরেছেন। রিচা এখন দলের সঙ্গে দিল্লিতে থাকলেও, আগামী শুক্রবার শিলিগুড়ি ফিরবেন। তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ির বাড়িতে এবং শহরে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
‘শরীর চর্চার জন্য খেলায় ঢুকিয়েছিলাম’
মেয়ের সাফল্য নিয়ে মানবেন্দ্র ঘোষের আবেগ ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি বলেন:
মানবেন্দ্র ঘোষের বক্তব্য:
“আমি কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি আমার মেয়ে ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলবে ও জয়ী হবে। আমি ওকে খেলায় ঢুকিয়েছিলাম শরীর চর্চার জন্য। পরে দেখলাম ওর খেলার প্রতি দারুণ আগ্রহ। তারপর থেকে আমি স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। প্রথমে স্বপ্ন ছিল ডিস্ট্রিক্ট খেলবে… তারপর বেঙ্গল খেলার স্বপ্ন সার্থক হয়… আর এই সব স্বপ্ন রিচাই দেখাতে শিখিয়েছে।”
মেয়ের পারফর্ম্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, রিচা সবসময় আগ্রাসী খেলার পক্ষে। তাই তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে রিচা বড় শট খেলে রানটা তুলে দেবে। তিনি শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মন্ধানা সহ দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই এই সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন।
শিলিগুড়ি মহিলা ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর রিচা
রিচার এই সাফল্যকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে প্রস্তুত শিলিগুড়ি।
সংবর্ধনা: শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের তরফে রিচাকে শিলিগুড়ি মহিলা ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ঘোষণা করা হয়েছে।
বরণের আয়োজন: শুক্রবার রিচা ফিরলে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বাগডোগরা বিমানবন্দরে রিচাকে স্বাগত জানাবেন।
ক্লাবের উচ্ছ্বাস: যে ক্লাবে চার বছর বয়সে রিচার ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়েছিল—সেই বাঘাযতীন অ্যাথলেটিক ক্লাবও প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্পাদক প্রসূন দাশগুপ্ত জানান, বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে হুড খোলা জিপে ও বাইকের কনভয় করে রিচাকে ক্লাবে নিয়ে আসা হবে।
শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের ক্রিকেট সচিব ভাস্কর দত্ত মজুমদার বলেন, রিচা যেভাবে বাংলাকে ও শিলিগুড়িকে গর্বিত করেছেন এবং মহিলা ক্রিকেটের অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছেন, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।