‘মাতঙ্গিনী হাজরারা গলায় ফাঁসি নিলেন, আর আপনারা! ১৫০ বছর পূর্তিতে কেন ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরোধিতাকে হাতিয়ার করল বিজেপি?

‘বন্দে মাতরম’ গানের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলার বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক এই গানটিকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে এই দুই দল ‘রাজনৈতিক লজ্জার’ জন্ম দিয়েছে।
‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেস-তৃণমূলের নীরবতা ও বিরোধিতা
শমীক ভট্টাচার্য স্মরণ করিয়ে দেন যে, ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি নিয়ে বহু বিপ্লবী ফাঁসির দড়ি গলায় তুলে নিয়েছিলেন এবং মাতঙ্গিনী হাজরার মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুকে গুলি টেনে নিয়েছিলেন।
কংগ্রেসের বিরোধিতা: তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লিতে ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরুদ্ধে কংগ্রেস পথে নেমে বলেছিল যে এই গান মুসলিমদের পক্ষে গাওয়া সম্ভব নয়।
তৃণমূলের নীরবতা: শমীকবাবু প্রশ্ন তোলেন, যখন কংগ্রেস এই প্রতিবাদ মিছিলে নেমেছিল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিবাদ করেননি।
তৃণমূল নেতার কটাক্ষ: তিনি উল্লেখ করেন যে পরবর্তীকালে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্কে তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেছিলেন, এই গানের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা আছে।
বাম আমলের প্রসঙ্গ ও ‘ভারত-আত্মা’
শমীক ভট্টাচার্য কেবল তৃণমূলকেই নয়, বামেদেরও আক্রমণ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, তৎকালীন বাম মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন, তাঁর ভাবলে আশ্চর্য লাগে কিভাবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মত একজন প্রতিভাবান ঔপন্যাসিক ‘আনন্দমঠের’ মতো উপন্যাস লিখেছিলেন।
শমীকবাবু বলেন, “বন্দে মাতরম’ ভারতবর্ষের সমস্ত প্রান্তের, সমস্ত ভাষার ব্যবধানকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। আজ সেই ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরুদ্ধে যখন রাজনৈতিক দলগুলি প্রতিবাদ জানায়, তখন তা অত্যন্ত লজ্জার।”
তিনি এই প্রজন্মের কাছে ‘আনন্দমঠের ইতিহাস’ এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর মধ্যে দিয়ে ভারতীয় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের যে প্রতিধ্বনি হয়েছে, তা জানার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বিজেপি রাজ্য সভাপতি জানান, তাঁর দল সারা বছরব্যাপী নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে “বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বর্ষপূর্তি উদযাপন করবে।