বরফের চাদরে ঢেকে গেল বদ্রীনাথ ধাম! তীব্র ঠান্ডায় পারদ মাইনাসে, তবুও উপচে পড়া ভক্তের ভিড়, কেন এত আনন্দ?

উত্তরাখণ্ডের চারধামের অন্যতম ধাম বদ্রীনাথ এখন সাদা বরফের চাদরে ঢাকা। তীব্র তুষারপাতের ফলে মন্দির থেকে মন্দির চত্বর এক অন্য রকম নৈসর্গিক রূপ নিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর যদিও তুষারপাতের সঙ্গে বৃষ্টিপাতেরও পূর্বাভাস দিয়েছে, তবুও এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ধর্মীয় পুণ্যলাভের টানে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ছে।

তাপমাত্রা মাইনাস ১২ ডিগ্রি, তবুও চরম আনন্দ
বর্তমানে বদ্রীনাথ ধামে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মাইনাস ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঘোরাফেরা করছে, এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাঝে মাঝে মাইনাস ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও নেমে যাচ্ছে। এই চরম ঠান্ডাও পর্যটকদের মনকে আশঙ্কার বদলে আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে। পর্যটকেরা এই তুষারপাতের দৃশ্যকে বদ্রীনাথ দর্শনের ‘উপরি পাওনা’ হিসেবে দেখছেন।

গত ৪ মে সাধারণের জন্য বদ্রীনাথ মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছিল। নভেম্বর মাসেই তা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই শেষ মুহূর্তে পুণ্যলাভের আশায় ভক্তদের ঢল এখন বদ্রীনাথ ধামে।

প্রশাসনের সতর্কতা: পাহাড়ে না যাওয়ার অনুরোধ
পাহাড়ে তুষারপাত এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা কখনই নিরাপদ যাত্রার ইঙ্গিত বহন করে না। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন সাধারণ মানুষকে পাহাড়ে যেতে বারণ করেছে।

বৃষ্টি ও কুয়াশা: নভেম্বরের শুরুতেই উত্তরাখণ্ডের চামোলি, তেহরি, পিথোরাগড়, দেরাদুন, রুদ্রপ্রয়াগ এবং উত্তরকাশী জেলায় প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলগুলোতে কুয়াশাও ছেয়ে আছে এবং পর্বতের উপরের দিকে তুষারপাত শুরু হয়ে গেছে।

শীতকালীন পুজো হবে যোগ বদ্রীতে
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর মন্দিরের দরজা বন্ধ হওয়ার পর বদ্রীনাথের পুজো অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়। এ বছরও নভেম্বরে দরজা বন্ধ হলে বদ্রীনাথের পুজো যোগ বদ্রীতে করা হবে। বিগ্রহ ডোলি করে মন্দির থেকে যোগ বদ্রীতে নিয়ে আসা হবে, যা বদ্রীনাথের শীতকালীন আবাসস্থল। সেখানেই সারা শীতকাল ধরে পূজার্চনা চলবে।