‘প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়’! মুসলিম পুরুষের বহুবিবাহ নিয়ে কেরল হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়, কেন এটি ‘বিলাসিতা’ নয়?

ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় মহিলাদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে কেরালা হাইকোর্ট। আদালতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, কোনো মুসলিম পুরুষ তার দ্বিতীয় বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে পারবে না, যদি না তার প্রথম স্ত্রীকে জানানো হয় এবং তার মতামত নেওয়া হয়। এই রায়টি কেরালার মুসলিম মহিলাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে পুরুষতান্ত্রিক রীতির শিকার হয়ে আসছেন।
৯৯.৯৯ শতাংশ মহিলা আপত্তি করবেন: বিচারপতি কুণ্ণিকৃষ্ণন
বিচারপতি পি.ভি. কুণ্ণিকৃষ্ণন তাঁর রায়ে (৩০ অক্টোবর প্রকাশিত) স্পষ্ট করেছেন যে, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন অফ ম্যারেজেস (কমন) রুলস, ২০০৮-এর অধীনে সাংবিধানিক অধিকারকে ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের উপর প্রাধান্য দিতে হবে।
রায়ের পটভূমি ছিল কান্নুরের এক মুসলিম পুরুষ ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর আবেদন, যারা ২০১৭ সালের বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় রেজিস্ট্রার এই বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকার করেন, কারণ প্রথম স্ত্রীকে আবেদনে পক্ষ করা হয়নি।
বিচারপতি কুণ্ণিকৃষ্ণনের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য:
“এই আদালত তার স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহ রেজিস্ট্রির সময় প্রথম স্ত্রীর অনুভূতিকে উপেক্ষা করতে পারে না।” তিনি আরও যোগ করেছেন যে, “৯৯.৯৯ শতাংশ মুসলিম মহিলা তাদের স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহের বিরোধিতা করবেন” যদি প্রথম সম্পর্ক এখনও চলমান থাকে।
‘কুরআনের চেতনা মোনোগ্যামিকে উৎসাহিত করে’
আদালত স্পষ্ট করেছে যে ধর্মীয় আইন যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, তা সংবিধানের সমানতা এবং ন্যায়বিচারের নীতির অধীন। মুসলিম পার্সোনাল ল’ অনুসারে পুরুষের চারটি বিবাহের অনুমতি থাকলেও, সেটি শুধুমাত্র বিশেষ শর্তে—যেমন সকল স্ত্রীদের প্রতি সমান ন্যায় করতে পারলে।
আদালত বলেছে, “কুরআন বা মুসলিম আইন প্রথম স্ত্রীর জ্ঞান বা সম্মতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ বা অবৈধ সম্পর্ককে অনুমোদন করে না।”
রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ: এখন থেকে দ্বিতীয় বিবাহের আবেদন পেলে রেজিস্ট্রারকে অবশ্যই প্রথম স্ত্রীকে নোটিশ দিতে হবে।
সিভিল কোর্টে বিচার: যদি প্রথম স্ত্রী আপত্তি জানান এবং বিবাহটি অবৈধ বলে দাবি করেন, তবে রেজিস্ট্রার সেই বিবাহ রেজিস্ট্রি না করে বিষয়টি সিভিল কোর্টে পাঠাবেন, যাতে বিবাহের বৈধতা নির্ধারিত হয়।
এই রায়টি কেরালার মতো অগ্রগামী রাজ্যে মহিলা অধিকারের জন্য একটি মাইলফলক। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর দ্রুত ভাইরাল হয়েছে, এবং #KeralaHighCourt ও #WomenRights ট্যাগ ট্রেন্ড করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই জয় বহুবিবাহের বিষয়ে পার্সোনাল ল’-এর সংস্কারের দাবিকে আরও জোরালো করবে।