অভিষেকের পর নতুন বস্ত্র ও অলঙ্কার! জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার রাজবেশে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এলেন হাজার হাজার ভক্ত

নবনির্মিত দিঘা জগন্নাথ ধামে বুধবার প্রথমবারের মতো মহাসমারোহে পালিত হলো পুণ্যময় রাস উৎসব। ভোর থেকেই মঙ্গলারতি ও বিশেষ পুজোর মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। এই প্রথম রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির চত্বরে নেমেছিল মানুষের ঢল। দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার দর্শন পেতে ভিড় জমান।

আবেগময় ভক্তি ও এলাহী আয়োজন
রাস উৎসব উপলক্ষে গোটা মন্দির চত্বরকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। রকমারি ফুল, মনোমুগ্ধকর অভ্যন্তরীণ আলোকসজ্জা এবং ভক্তি সংগীতের সুরে গোটা পরিবেশ মুখরিত হয়ে উঠেছে।

দিনের কর্মসূচি ছিল একাধিক:

মঙ্গলারতি ও অভিষেক: সকালে মঙ্গলারতির মধ্য দিয়ে দিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, দুপুরে হয় ভগবানের অভিষেক।

রাজবেশ: এরপর জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে পরানো হয় নতুন বস্ত্র ও অলঙ্কার। পুজারীরা নিষ্ঠাভরে ভোগ প্রস্তুতি ও পুজো অর্চনা সম্পন্ন করেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: মন্দির প্রাঙ্গণে দিনভর চলেছে ভক্তি গীত, ভজন, কীর্তন ও শাস্ত্রীয় নৃত্যের আয়োজন, যা ভক্তদের মন কেড়ে নিয়েছে।

দিঘা জগন্নাথ ধাম ট্রাস্টি কমিটির অন্যতম রাধারমন দাস জানান, সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে তাঁরা নিয়মিত তদারকি করছেন এবং ট্যুরিস্ট গাইডেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক ভক্ত স্নেহলতা জানা বলেন, “এত সুন্দর আয়োজন, এত রংবাহারি ফুলের সাজ ও ভক্তির পরিবেশ আগে কখনও দেখিনি। আজ ভগবানের দর্শন পেয়ে পরম শান্তি পেলাম।”

কড়া নিরাপত্তা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন
রাস উৎসবের এই বিপুল জনসমাগমের জন্য মন্দির চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও নজরদারি চালাচ্ছেন, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে রংবাহারি আলোয় সেজে ওঠে গোটা জগন্নাথ ধাম। মন্দিরের প্রতিটি কোণে প্রদীপের আলো জ্বালানোর মধ্য দিয়ে দিনভর চলা রাস উৎসবের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।