‘আপনারা হিন্দু, যেতে পারবেন না’! ভিসা থাকার পরও ১৪ জনকে আটকে দিল পাকিস্তান, আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক

শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকের জন্মবার্ষিকী গুরু নানক জয়ন্তী উপলক্ষে প্রতি বছরই হাজার হাজার ভারতীয় তীর্থযাত্রী পাকিস্তানে অবস্থিত পবিত্র গুরুদ্বারগুলিতে যান। কিন্তু এবার এই ধর্মীয় যাত্রাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সরকার প্রকাশ্যেই ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করল বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিখ তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য তৈরি হওয়া ১৪ জন ভারতীয় পুণ্যার্থীকে শিখ না হওয়ার কারণে সে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

‘আপনারা হিন্দু, তাই প্রবেশ নিষেধ’
জানা যায়, মোট ১৯০০ জন তীর্থযাত্রীকে পাকিস্তান সফরের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বুধবার এই ১৯০০ জনের দলটির মধ্যে থেকে হঠাৎই ১৪ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। এই ১৪ জন পুণ্যার্থীই ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

সূত্রের খবর, ওই ১৪ জনকে সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়:

“আপনারা হিন্দু। তাই শিখ পুণ্যার্থীদের সঙ্গে পাকিস্তানে প্রবেশ করতে পারবেন না।”

যদিও জানা গেছে, ভিসা সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।

‘হিন্দুফোবিয়া’র অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক বিতর্ক
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে এবং ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি পাকিস্তানের যে ‘হিন্দুফোবিয়া’ এবং অসহিষ্ণুতা, এই ঘটনায় তা ফের একবার প্রকাশ্যে এলো। ভারতের ধর্মীয় তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে এমন আচরণ করার ঘটনায় ইসলামাবাদ কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করে পুণ্যার্থীদের আটকানোর এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন করে তিক্ততা যোগ করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।