বিহারে শেষ লগ্নের মহাযুদ্ধ! যোগী আদিত্যনাথের জনসভায় উপচে পড়া ভিড়, সরাসরি রাম মন্দির প্রসঙ্গ টেনে কী হুঁশিয়ারি দিলেন?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে শেষ লগ্নের প্রচারে জনসভাগুলোতে ঝড় তুলছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির ‘স্টার ক্যাম্পেনার’ যোগী আদিত্যনাথ। বুধবার সমস্তিপুরে যোগীর জনসভায় উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো, যেখানে তিনি তাঁর চিরাচরিত মেজাজে গর্জন করে কংগ্রেস ও আরজেডি-কে তীব্র আক্রমণ করেন।

সমস্তিপুরের সভায় যোগীর ‘রাম মন্দির’ গর্জন
এদিন যোগী আদিত্যনাথ তাঁর ভাষণে সরাসরি রাম মন্দির নির্মাণ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বহু বছরের প্রতীক্ষার পর যখন রাম মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে, তখন কিছু রাজনৈতিক দল এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল আরজেডি (RJD) এবং কংগ্রেস (Congress)। যোগী প্রশ্ন তোলেন, “যে দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণে বাধা দিয়েছে এবং সনাতন সংস্কৃতিকে অপমান করেছে, তারা কি কখনও বিহারের মানুষের ভালো করতে পারে?” তিনি বিহারের মানুষকে সতর্ক করে দেন যে, যদি মহাগঠবন্ধন ক্ষমতায় আসে, তবে তারা রাজ্যের উন্নয়ন থমকে দেবে।

যোগী আদিত্যনাথের ভাষণের মূল সুর:

“যারা ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করে দীর্ঘদিন ধরে দেশকে ভাগ করার চেষ্টা করেছে, তারা আবার ক্ষমতায় এলে বিহারের যুবকদের বেকারত্ব বাড়বে এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।”

উপচে পড়া ভিড়: বার্তা স্পষ্ট
সমস্তিপুরের জনসভায় যোগী আদিত্যনাথকে দেখতে এবং তাঁর ভাষণ শুনতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করেছিলেন। ভিড় দেখে এটা স্পষ্ট, শেষ মুহূর্তের প্রচারে যোগীর উপস্থিতি বিজেপির ভোটবাক্সে অতিরিক্ত মাইলেজ দিতে পারে। তাঁর ‘বুলডোজার বাবা’ ভাবমূর্তি এবং কঠোর হিন্দুত্ববাদী অবস্থান ভোটারদের একটি বড় অংশকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

যোগী আদিত্যনাথ মহাগঠবন্ধনের নেতাদের কটাক্ষ করে আরও বলেন, বিহারে ডবল ইঞ্জিন সরকারই একমাত্র রাজ্যের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিহারে প্রথম দফার ভোটে যোগী আদিত্যনাথের এই আক্রমণাত্মক প্রচার এবং রাম মন্দিরকে সামনে নিয়ে আসা, শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মধ্যে মেরুকরণের প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।