মামা-ভাগ্নের সম্পর্ক রক্তাত্ব! হাসপাতালের সিঁড়িতে মাথা ঠুকে মার্ডার, চাঞ্চল্যকর খুনের অভিযোগে গ্রেফতার গণেশ রমেশ পূজারি

বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ে পরপর দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অপরাধের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ল। একদিকে মামাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে ভাগ্নে, অন্যদিকে পরকীয়া সন্দেহে প্রেমিকার ওপর হামলা চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক।

হাসপাতালে মামা খুন: সিসিটিভি ফুটেজে নৃশংসতা
বৃহস্পতিবার গোরগাঁওয়ের বাসিন্দা গণেশ রমেশ পূজারি (২৬) নামে এক যুবককে তার মামা মারিয়াপ্পা রাজু নায়ারকে (৪০) খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত পূজারির স্ত্রী প্রসবের জন্য থানের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মামা এবং ভাগ্নে দু’জনেই সেখানে ছিলেন। সেখানেই তাদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে চরম বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই বচসার জেরেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

পুলিশ জানিয়েছে, বচসার জেরে পূজারি তার ৪০ বছর বয়সী মামা নায়ারের কলার ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালের সিঁড়ির ধাপে সজোরে মাথা ঠুকে দেয়। এরপর সে মামাকে তুলে নিয়ে ফের সিঁড়িতে আছড়ে মারে। এর ফলেই মারিয়াপ্পা রাজু নায়ারের মৃত্যু হয়। ঘটনার একটি দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে পূজারিকে তার মামাকে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত পূজারিকে গ্রেফতার করে।

প্রেমিকার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ, হামলা চালিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
অন্যদিকে, মুম্বই শহরে আরও একটি ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে। পরকীয়া সন্দেহের জেরে প্রেমিকার ওপর হামলা চালানোর পর আত্মহত্যা করেছেন ২৪ বছর বয়সি যুবক সনু বারাই।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার সনু বারাই তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা মণীষা যাদবকে ছুরি মারেন এবং তারপর নিজেই নিজের ওপর হামলা চালান। এই ঘটনায় সনু বারাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় প্রেমিকা মণীষা যাদব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গিয়েছে, সনু বারাই এবং মণীষা যাদবের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু মাত্র আট দিন আগেই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। সনু বারবার মণীষার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেন এবং তিনি অন্য সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করতেন। এই আক্রোশই হামলার কারণ বলে অনুমান করছে পুলিশ।

সনু মণীষাকে একটি নার্সিং হোমের সামনে ‘শেষবারের মতো’ দেখা করার জন্য ডাকেন। কথা বলার সময়ই বচসা শুরু হয়। রাগে দিকবিদিকশুন্য হয়ে সনু মণীষাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর ওই যুবক নিজের ওপরও ছুরি চালান। নার্সিং হোমের প্রবেশদ্বারে রক্তাক্ত সনু বারাই অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে আঘাতের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। আহত মণীষা যাদবের চিকিৎসা চলছে।