আমেরিকায় আজই মহা-ফায়সালা! হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে কেন কাঁপছে বিশ্ববাজার?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন (Midterm Election)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতিগুলি আগামী দু’বছর আদৌ নির্বিঘ্নে কার্যকর হবে কি না, কিংবা মার্কিন জনগণের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা কতটা অটুট রয়েছে— এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলবে এই নির্বাচনের ফলাফলে। একদিকে যখন ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে ক্ষমতা দখলের (‘Power Shift’) আশায় বুক বাঁধছে, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনও কোমর বেঁধে একাধিক কঠোর এগজিকিউটিভ অ্যাকশন এবং আরও চড়া হারে ট্যারিফ চাপানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

ট্যারিফ প্রত্যুদ্ধে প্রতীকী ভোটাভুটির পরিকল্পনা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বাণিজ্য নীতি নিয়ে ফের একপ্রস্থ তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়তে চলেছেন তিনি। মিডটার্ম নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে পায়, তবে তারা ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি নিয়ে একাধিক কড়া নজরদারিমূলক শুনানির পরিকল্পনা করছে। এমনকি আগামী বছর ট্যারিফ প্রত্যুতের দাবিতে একটি প্রতীকী ভোটাভুটির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবছে ডেমোক্র্যাট শিবির। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও নতুন করে ট্যারিফ আরোপের কৌশল থেকে ট্রাম্পকে পুরোপুরি বিরত রাখা বেশ কঠিন হবে।

ডেমোক্র্যাট সেনেটর রন ওয়াইডেন এই প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, “আমাদের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হবে কানাডার ওপর থেকে অযৌক্তিক ট্যারিফ প্রত্যাহার করা। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে এবং সীমান্তের দুই পারের সাধারণ জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

কংগ্রেসে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও ট্রাম্পের ‘ভেটো’ ক্ষমতা

মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ— হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (House of Representatives) এবং সেনেট (Senate)-এর বর্তমান সমীকরণ বেশ কৌতূহলে ভরা। রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা টপকাতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র চারটি করে আসন বাড়াতে হবে। জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত বলছে, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেনেটের লড়াই এখনও অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হওয়ায় এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

যদিও ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের দখল নেয়, তবুও রাষ্ট্রপতির ভেটো (Veto) ক্ষমতা খারিজ করার মতো প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের পাওয়া একপ্রকার অসম্ভব। ফলে মার্কিন নীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্পের যেকোনো সিদ্ধান্ত বা বিলে প্রেসিডেন্টের ভেটো প্রয়োগ একাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ঠেকানো কঠিন হবে।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম রেইনশের মতে, “ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন উপায়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, তবে শেষ পর্যন্ত তা শক্ত আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ দুই দলের কারোরই ভেটো খারিজ করার মতো ম্যাজিক ফিগার বা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।”

সব মিলিয়ে, মঙ্গলবারের এই মিডটার্ম নির্বাচন শুধু মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির ভবিষ্যতকেও বড় মোড় দিতে চলেছে।