রেকর্ড পতন! এক দশকে এমনটা ঘটেনি, একদিনেই বিরাট কমল হলুদ ধাতুর দর, জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

চলতি বছরে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর অবশেষে সোনার দামে বড়সড় পতন। কালীপুজোর পর থেকেই সোনার দর হাজার হাজার টাকা কমতে শুরু করেছে। আজ, বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীবারেও তা অব্যাহত রয়েছে। একটানা দাম বেড়ে যাওয়ায় যে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন, তাঁদের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মুখেও হাসি ফুটেছে।
একদিনেই বিরাট পতন
গত এক দশকের মধ্যে মঙ্গলবার একদিনের মধ্যে সোনার দামে বিরাট পতন হয়েছে। একইভাবে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির পর রুপোর দামও একদিনের মধ্যে হু হু করে কমেছে।
রেকর্ড উচ্চতা: চলতি সপ্তাহে সোমবার কলকাতায় ১০ গ্রাম ২২ ক্যারাট সোনার দাম ছিল ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৮০০ টাকা। ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারাট সোনার দাম ছিল ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৬৯০ টাকা।
পতন: গত ১৭ অক্টোবর ভারতীয় বাজার এমসিএক্স-এ রুপো প্রতি কেজিতে প্রায় ২০,০০০ টাকা এবং সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ৪,০০০ টাকা কমেছে।
জানুয়ারি মাস থেকে সোনা ও রুপোর দাম টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকায় অনেক মানুষ উৎসবের আবহেও গয়না কেনা থেকে বিরত ছিলেন।
কেন দাম কমল? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
এই বড়সড় পতনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন অল ইন্ডিয়া জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের সভাপতি রাজেশ রোকডে। তাঁর মতে, গত চার মাসে সোনার দাম প্রতি আউন্সে প্রায় ৩,৩০০ ডলার থেকে বেড়ে ৪,৪০০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। তাই এই পতন অনিবার্য ছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারে পতন: লন্ডন ট্রেডিংয়ে প্রতি আউন্সে সোনার দাম ৪,১০০ ডলারের নীচে নেমে গিয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ৪,০৪৬.৯৬ ডলারে নেমে আসে। রুপোর দামেও একই রকম হেরফের দেখা গিয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনে সোনার দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০৩০ সালে কি ৩ লক্ষ টাকা?
চলতি বছরে সোনা ও রুপোর দামের বৃদ্ধি শেয়ার বাজারকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এমসিএক্স গোল্ড ফিউচার ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে এই সময়ের মধ্যে বিএসই সেনসেক্স মাত্র পাঁচ শতাংশ বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে একাংশের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে সোনার দাম তিন লক্ষ টাকায় পৌঁছে যেতে পারে। আবার অন্য একাংশের মতে, সোনার দাম আরও হু হু করে কমতে পারে। তবে আপাতত বিয়ের মরশুমের আগে সোনার এই পতন মধ্যবিত্তদের জন্য স্বস্তি এনেছে।