‘জওয়ানো, আজ খতম কর দো ইনকো!’ -মৃত্যুর মুখ থেকেও গর্জন! অপারেশন সিঁদুরের সেই ভয়াবহ লড়াই

সীমান্তে পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে বীরত্বের এমন কাহিনি বিরল। চরম আঘাত পেয়ে হাত-পা ছিন্নবিচ্ছিন্ন, সারা শরীর থেকে রক্ত ঝরছে—তবুও দাঁতে দাঁত চেপে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। সহযোদ্ধাদের দিকে তাকিয়ে শেষ শক্তি দিয়ে চিৎকার করে বললেন, “জওয়ানো, আজ খতম কর দো ইনকো!”

এঁরা হলেন সপ্তম বিএসএফ ব্যাটেলিয়নের সাব ইন্সপেক্টর মহম্মদ ইমতিয়াজ এবং কনস্টেবল দীপক চিংখাখাম। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন বীরবিক্রমে লড়ে তাঁরা দু’জনেই শহিদ হন। এই অদম্য সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ কেন্দ্রীয় সরকার ইমতিয়াজ এবং দীপককে মরণোত্তর বীরচক্র সম্মানে ভূষিত করেছে। এছাড়াও, বিএসএফ-এর আরও ১৬ জন সদস্যকে পুলিশ গ্যালান্ট্রি মেডেল প্রদান করা হয়েছে।

কেমন ছিল সেই ভয়াবহ লড়াই? কেন্দ্রীয় সরকারের গেজেটে প্রকাশিত বীরত্বগাথা অনুযায়ী, ঘটনাটি ১০ মে খারকোলা সীমান্ত চৌকিতে ঘটেছিল। সকালে আচমকাই পাকিস্তানি সেনা মর্টার আর ড্রোন হামলা শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে হাতে লাইট মেশিনগান নিয়ে বাঙ্কার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন সাব ইন্সপেক্টর ইমতিয়াজ। ড্রোন এবং গুলির লড়াই শুরু হয়। দীপক চিংখাখামও ড্রোনের মোকাবিলা করছিলেন। হঠাৎ সেন্ট্রি পোস্টের কাছে একটি মর্টার শেল বিস্ফোরণ হয়, যাতে দু’জনেই গুরুতর আহত হন।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে:

মহম্মদ ইমতিয়াজ: সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গুরুতর আঘাত পান। তাঁর হাত-পা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘাড়, হাত ও পেটে শেল-স্প্লিন্টারের গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। সেই ভয়াবহ অবস্থাতেও তিনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেন এবং সেনাদের উদ্দীপ্ত করার জন্য ওই ঐতিহাসিক বাক্যটি উচ্চারণ করেন।

দীপক চিংখাখাম: তাঁর পা ভেঙে গিয়েছিল এবং গোটা শরীর স্প্লিন্টারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত ছিল। তাঁকে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি সহযোদ্ধাদের ছেড়ে যেতে রাজি হননি। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে যান।

‘অপারেশন সিঁদুর’ কী ছিল? ২২ এপ্রিল পহেলগামে ২৬ জন পর্যটককে গুলি করে খুন করে জঙ্গিরা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর দেশ জুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে ৭ মে ভারতীয় সেনা ও বিএসএফের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। এই অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ১০ মে পর্যন্ত এই অভিযান চলে। ওই দিন বিকেলে দুই দেশের ডিজিএমও-র বৈঠকের পরই সীমান্তে সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল।