নারীর সুরক্ষায় ‘শক বন্দুক’! গণধর্ষণ কাণ্ডের পর দুর্গাপুরের মাধ্যমিক পাশ যুবকের মাত্র ২ দিনের আবিষ্কার

একদিকে যখন ডাক্তারি পড়ুয়া নির্যাতনের ঘটনায় রাজ্য তোলপাড়, ঠিক সেই সময় মহিলাদের আত্মরক্ষার জন্য এক দুর্দান্ত ডিভাইস আবিষ্কার করে ফেললেন দুর্গাপুরের এক যুবক। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই তাঁর সেই উদ্ভাবনী ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

দুর্গাপুর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুবচুরুরিয়া এলাকার বাসিন্দা বছর ৩০-এর ছোটন ঘোষ। তিনি পেশায় ফুলের সাজসজ্জার ব্যবসায়ী হলেও, ছোটবেলা থেকেই গ্যারেজের যন্ত্রাংশ নিয়ে নানান সামগ্রী বানানো তাঁর নেশা।

গণধর্ষণ কাণ্ডের পরই ‘টিজার গান’ তৈরি
সম্প্রতি দুর্গাপুরের শোভাপুর এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক পড়ুয়ার গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পরই মহিলাদের আত্মরক্ষার বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে ছোটনকে। আর যেমন ভাবা তেমন কাজ! মাত্র দু’দিনেই তিনি বৈদ্যুতিক চালিত ‘টিজার গান’ তৈরি করে ফেলেন, যা মূলত ‘শক বন্দুক’ নামে পরিচিত।

ছোটনের দাবি, তাঁর তৈরি এই বন্দুকটি প্রাণনাশক নয়, এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকারকও নয়। তিনি ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করেছেন। তাঁর দাবি,

“টিজার গান ব্যবহার করলে আক্রমণকারীকে কিছুক্ষণের জন্য অক্ষম করে দেবে। এটি দুষ্কৃতীদের জব্দ করতে ব্যপক কার্যকরী হবে।”

কীভাবে কাজ করবে এই যন্ত্র?
ছোটনের তৈরি এই প্লাস্টিকের টিজার গানটি একফুট দূরে থাকা দুষ্কৃতীকে বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম। এটিতে সাড়ে ৪ ভোল্টের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহৃত হওয়ায় একবার চার্জ দিলেই একমাস চার্জ থাকবে। এই বন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ৬০০ ইউভি ডিসি ভোল্ট ছাড়া হবে।

এর আগে ছোটন ঘোষ ১০ সিটের সৌরবিদ্যুৎ চালিত বাইক তৈরি করে নজির গড়েছিলেন। এছাড়াও, প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে মোবাইল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম চন্দ্রযান-৩ এবং মানববহনকারী ড্রোন তৈরি করে শিরোনামে এসেছিলেন। তাঁর দাবি, এমন আত্মরক্ষার বন্দুক বাজারজাত হলে পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মহিলারা খুব সহজে নিজেদের আত্মরক্ষা নিজেরাই করতে পারবেন।