‘হামলাকারীরা দিদির লোক’! রক্তাক্ত খগেন মুর্মুকে দেখতে হাসপাতালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তারপরই খুনের চেষ্টার মামলা

জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার ঘটনায় এবার যুক্ত হলো খুনের চেষ্টার (Attempt to Murder) মতো গুরুতর মামলা। ঘটনায় ধৃত ৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা (খুনের চেষ্টা) যুক্ত করেছে পুলিশ। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৪ অক্টোবর জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে হবে।
সাংসদের অভিযোগ: ‘খুন করার চক্রান্ত ছিল’
গত সোমবার দুপুরে নাগরাকাটার বামনডাঙা গ্রামে দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। অভিযোগ, তাঁদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়, যার আঘাতে রক্তাক্ত হন সাংসদ মুর্মু।
হামলার পর খগেন মুর্মু সরাসরি দাবি করেছেন, হামলাকারীদের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের ‘মাথা থেঁতলে খুন করার’। এই ঘটনার পরই মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়।
ফেসবুক লাইভ ও ‘দিদির লোক’ তত্ত্ব
আহত হওয়ার পর সেখান থেকে গাড়িতে করে বেরিয়ে আসার সময়েই ফেসবুক লাইভ (Facebook Live) করেছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনি দাবি করেছিলেন, হামলাকারীরা নিজেদের ‘দিদির লোক’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার খগেন মুর্মুও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী: রাজনৈতিক সৌজন্য
এদিকে, গত মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে আহত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে দেখতে শিলিগুড়ির হাসপাতালে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী কিছু ক্ষণ মালদহ উত্তরের সাংসদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানের সঙ্গেও কথা বলার পর তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই সাক্ষাৎকারে সৌজন্যের বার্তা দেখলেও, এর পরই খুনের চেষ্টার মামলা যুক্ত হওয়ায় ঘটনাটি নতুন মোড় নিল।
বর্তমানে ধৃত ৫ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা যুক্ত হওয়ায় এই রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন সকলের নজর আগামী ২৪ অক্টোবরের জেলা আদালতের শুনানির দিকে।