১০০ কোটির মানহানির মামলা খারিজ! বম্বে হাইকোর্টে বড় ধাক্কা পেলেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, ভাই ও প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী ছিল?

বলিউড অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি (Nawazuddin Siddiqui)-র জন্য বড় আইনি ধাক্কা। তাঁর ভাই শামসুদ্দিন সিদ্দিকি এবং প্রাক্তন স্ত্রী অঞ্জনা পাণ্ডে-র বিরুদ্ধে করা ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা খারিজ করে দিল বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মামলাটি সঠিকভাবে এবং সময়মতো এগোনো হয়নি।

কী ছিল নওয়াজউদ্দিনের অভিযোগ?
নওয়াজউদ্দিনের অভিযোগ ছিল অত্যন্ত গুরুতর। তিনি দাবি করেন, ২০০৮ সাল থেকে তাঁর ভাই শামসুদ্দিন তাঁর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় নওয়াজউদ্দিন বলিউডে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন না। এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাঁর ভাই:

সম্পত্তি হাতবদল: অভিনেতা মুম্বই ও দুবাইয়ে যে সব ফ্ল্যাট, শাপুরে ফার্মহাউস, বুলধানায় জমি এবং দামি গাড়ি কিনেছিলেন, শামসুদ্দিন ধীরে ধীরে সেগুলিকে নিজের নামে করে নেন।

ব্যাঙ্ক ও ইমেল ব্যবহার: ক্রেডিট-ডেবিট কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসওয়ার্ড, ইমেল— সবকিছুই শামসুদ্দিনের হাতে ছিল, যা তিনি কাজে লাগান।

মানহানি: প্রাক্তন স্ত্রী অঞ্জনাও এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের দু’জনের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা, মানহানিকর পোস্ট করা এবং টাকা-পয়সার হেরফের করার অভিযোগ তোলেন নওয়াজউদ্দিন।

নওয়াজউদ্দিন আদালতকে অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর নামে ছড়ানো সব মিথ্যা পোস্ট মুছে ফেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হোক এবং সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

কেন খারিজ হলো মামলা?
বিচারপতি জিতেন্দ্র জৈন-এর বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছিল। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মামলাটি ঠিক মতো এগোনো হয়নি— সময়মতো হাজিরা বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আইন মেনে মামলা না এগোলে তা চালানো সম্ভব নয়। এই কারণেই নওয়াজউদ্দিনের মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয়।

তবে আদালতের এই রায়ই চূড়ান্ত নয়। আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে, নওয়াজউদ্দিন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারেন। আপাতত ভাই ও প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিনেতার এই ১০০ কোটির মামলা মুখ থুবড়ে পড়ল। এখন দেখার বিষয়, নওয়াজউদ্দিন আইনি লড়াই চালিয়ে যান কিনা।