কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার পরেই ‘কৈফিয়ত’ দিল আমেরিকা! ইসলামাবাদকে নতুন মিসাইল সরবরাহের খবর সত্যি?

বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ঢুকে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে নিজেদের যুদ্ধাস্ত্র কেনাবেচা নিয়ে কার্যত ‘কৈফিয়ত’ দিয়ে দিল আমেরিকা। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিল, পাকিস্তানকে নতুন করে কোনো মিসাইল সাপ্লাই করা হয়নি।
শুক্রবার ভারতের আমেরিকার দূতাবাসের তরফ থেকে জারি করা একটি বিবৃতিতে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
আমেরিকার সামরিক চুক্তিতে কী রয়েছে?
দূতাবাসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মার্কিন-পাক নতুন সামরিক চুক্তির আওতায় পাকিস্তানকে কোনো নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হয়নি।
বিবৃতি অনুযায়ী: “২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার একটি তালিকা সংবলিত চুক্তি পত্র প্রকাশ করে। যেখানে পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নানা ধরনের সেনা সরঞ্জাম সংক্রান্ত কেনাবেচার ঘোষণা করা হয়েছে।”
স্পষ্টীকরণ: দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে কৈফিয়তের সুরে জানিয়েছে, “প্রশাসন জোর দিয়ে জানাতে চায় যে, এই উল্লেখিত চুক্তির কোনো অংশই পাকিস্তানকে নতুন উন্নত মাঝারি-পাল্লার এয়ার টু এয়ার নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (AMRAAMs) সরবরাহের জন্য নয়।”
পাকিস্তান ছাড়াও তালিকায় আরও কারা?
আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, যে চুক্তিতে পাকিস্তান যুক্ত রয়েছে, তাতে আরও একাধিক অংশীদার দেশ অন্তর্ভুক্ত। এটি আসলে বিদেশি সামরিক বিক্রয় চুক্তির একটি অংশ।
তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলি হলো: যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ড, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া, কাতার, ওমান, দক্ষিণ কোরিয়া, গ্রীস, সুইজারল্যান্ড, পর্তুগাল, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, চেক প্রজাতন্ত্র, জাপান, স্লোভাকিয়া, ডেনমার্ক, কানাডা, বেলজিয়াম, বাহরাইন, সৌদি আরব, ইতালি, নরওয়ে, স্পেন, কুয়েত, সুইডেন, তাইওয়ান, লিথুয়ানিয়া, ইসরায়েল, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি এবং তুরস্ক।
এই বিবৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হওয়া জল্পনা এবং পাকিস্তানকে নতুন সামরিক সহায়তা দেওয়ার আশঙ্কা কাটাতে চাইল ওয়াশিংটন।