১৪ বছর পর ক্ষমতায় এসেই ভারতে কিয়ের স্টার্মার! ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-য় ব্রিটিশ বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী নয়াদিল্লি

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে তাঁর বিশেষ বিমান অবতরণ করার পর বহু প্রতীক্ষিত সাক্ষাৎ হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে। লেবার পার্টি গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর ব্রিটেনের সর্বোচ্চপদস্থ নেতার এটাই প্রথম ভারত সফর, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে।
মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে, অজিত পওয়ার ও রাজ্যপাল আচার্য।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ‘২০৩৫ রোডম্যাপ’
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মোদি ও স্টার্মারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল ২০৩৫ সালের রোডম্যাপ।
সহযোগিতার ক্ষেত্র: বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পথ খোঁজা হয়।
বাণিজ্য চুক্তি: গত জুলাইয়ে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এটি দুই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। তাই এই চুক্তির বাস্তবায়ন ও প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন চুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে এসেছে।
কূটনৈতিক তাৎপর্য ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্স (X) হ্যান্ডলে স্টার্মারের সফরকে স্বাগত জানিয়ে লেখেন, ব্রিটেনের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আসা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা। তিনি পারস্পরিক উন্নতি ও সহযোগিতার শক্তিশালী ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে বৈঠকের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টার্মারের এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব কম নয়।
প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা: দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হতে পারে।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব: সবুজ শক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা ও স্টার্ট-আপ খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
কৌশলগত অবস্থান: ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অবস্থান এবং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে ভারত এখন ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাময় অংশীদার। অন্যদিকে, নয়াদিল্লিও প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগে ব্রিটিশ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, যা আগামী দশকে দুই দেশের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষায় গভীর প্রভাব ফেলবে।