৪০টি ‘জেতার মতো আসন’ চাই! অমিত শাহের কাছে কড়া বার্তা চিরাগের, বিহারে নীতীশকে ফের বিপাকে ফেলার ছক

২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তাপমাত্রা তুঙ্গে। ভোট যখন দরজায় কড়া নাড়ছে (৬ ও ১১ নভেম্বর ভোট, ফল ১৪ নভেম্বর), তখনই শোনা গেল নতুন এক জোটের সম্ভাবনার কথা। জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (NDA)-এর মূল শরিক এলজেপি (রামবিলাস) প্রধান চিরাগ পাসওয়ান নাকি জোট থেকে বেরিয়ে গিয়ে কৌশলবিদ-থেকে-রাজনীতিক প্রশান্ত কিশোরের (PK) নতুন দল জন সুরাজের সঙ্গে হাত মেলাতে পারেন।
সূত্রের খবর, যদি এনডিএ-র আসন-বণ্টন নিয়ে চিরাগ পাসওয়ানের দাবি না মানা হয়, তবে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
৪০টি আসন না পেলে মন্ত্রীত্বও ছাড়তে রাজি চিরাগ
বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রয়াত রামবিলাস পাসওয়ানের উত্তরসূরি চিরাগ পাসওয়ান, এবার বিহারের মাটিতে নিজের শক্ত অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। তাঁর দাবি, ২৪৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে তাঁর দল অন্তত ৪০টি জেতার মতো আসন পাবে। এই দাবির কারণ হলো, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর দল যে ৫টি আসনে লড়েছিল, সবকটিতেই জয়ী হয়েছিল।
দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, চিরাগ কোনোভাবেই আসনের সংখ্যা কমাতে রাজি নন। এমনকি তিনি নাকি বলেছেন, দরকার হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্ব ছেড়েও বিহারের মাটিতে লড়াই করবেন। তাঁর কাছে “বিহার ফার্স্ট, বিহারি ফার্স্ট” নীতিই অগ্রগণ্য।
বিজেপি-জেডিইউর প্রস্তাব: LJP-কে ২৫ আসন!
ইন্ডিয়া টুডে সূত্রে খবর, এনডিএ-তে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিজেপি ও জেডিইউ সমান সংখ্যক আসনে লড়তে প্রস্তুত। মোট ২০৫টি আসন এই দুই দলের মধ্যে ভাগ হবে বলে আলোচনা চলছে।
বাকি ৩৮টি আসন ছোট মিত্র দলগুলির জন্য রাখা হয়েছে—এলজেপি (রামবিলাস), হাম (সেক্যুলার) ও আরএলএম। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, এলজেপিকে দেওয়া হতে পারে ২৫টি আসন, হাম (Jitan Ram Manjhi)-কে ৭টি এবং আরএলএম (Upendra Kushwaha)-কে ৬টি আসন।
এই ২৫ আসনের প্রস্তাবেই চিরাগ পাসওয়ান অসন্তুষ্ট। ছোট দলগুলির অংশ কমে গেলে বিজেপি তাদের রাজ্যসভা বা বিধান পরিষদের আসন দিয়ে ক্ষতিপূরণ করতে পারে বলেও ইঙ্গিতে জানানো হয়েছে।
পিকে ও চিরাগের অভিন্ন নীতি: জল্পনা তুঙ্গে
২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও আসন বণ্টন নিয়ে জেডিইউর সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় এলজেপি আলাদা ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। সেই সময় এলজেপির ভোট বিভাজনের কারণে অন্তত ২৭টি আসনে জেডিইউ পরাজিত হয়।
অন্যদিকে, প্রশান্ত কিশোরের নতুন দল জন সুরাজ প্রথমবারের মতো নির্বাচনে নামছে। তাদের প্রচারের মূল বিষয় বেকারত্ব, অভিবাসন ও বিহারির গর্ব। চিরাগ ও কিশোর—দুই তরুণ নেতা—একই ধরনের রাজনৈতিক থিমে কথা বলছেন। ফলে, যদি এনডিএ-র সঙ্গে চিরাগের বোঝাপড়া না হয়, তবে এই দুই তরুণ নেতার জোট বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।