‘দু’গালে চড় মারলে গান্ধীবাদ নয়, সুভাষবাদ!’ ত্রিপুরার হামলার প্রতিবাদে উত্তাল তৃণমূল, ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল আগরতলায়

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সাংসদ-বিধায়ক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার পর এবার প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি-শাসিত ত্রিপুরায় ‘ফ্যাসিবাদ’ ও ‘গুন্ডারাজ’-এর অভিযোগ তুলেছে।

তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে সরাসরি অভিযোগ করেন, ত্রিপুরায় বিজেপি যা চালিয়েছে, সেটা ‘লুম্পেনরাজ’। তাঁর দাবি, স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত দেব দাঁড়িয়ে থেকে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য দফতরে ভাঙচুর করিয়েছেন। এমনকি বিজেপির জেলা সভাপতিও এই কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তৃণমূলের কড়া হুঁশিয়ারি: ‘গান্ধীবাদ ছেড়ে সুভাষবাদ আঁকড়ে ধরব’
অরূপ চক্রবর্তী ত্রিপুরা প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কোনো কার্যালয়ে ভাঙচুর হলে রাজ্য প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, কিন্তু ত্রিপুরায় অভিযোগই নেওয়া হয় না। তিনি বলেন, “দু’গালে চড় মারলে তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু গান্ধীবাদ ছেড়ে সুভাষবাদ আঁকড়ে ধরবে।” অর্থাৎ, পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।

অরূপের অভিযোগ, ত্রিপুরায় ‘স্কোরশিট বাড়াতে’ গুন্ডারাজ চলছে। তবে বাংলায় বিজেপি নেতাদের আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি কেন্দ্রের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের প্রকল্পের টাকা আটকে রাখায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ, আর সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

পাল্টা চাপ: ত্রিপুরার উদ্দেশে তৃণমূলের ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল
ত্রিপুরায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে আজ, বুধবার, তৃণমূলের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আগরতলা গিয়েছে। এই দলে রয়েছেন:

রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ

যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ

রাজ্যের বনমন্ত্রী ও ঝাড়গ্রামের বিধায়ক বীরবাহা হাঁসদা

জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল

রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব

তৃণমূল নেতা সুদীপ রাহা

নাগরাকাটার ঘটনার প্রতিবাদেই হামলা?
সোমবার উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর হামলা হওয়ার পরদিন, মঙ্গলবার আগরতলায় ধিক্কার মিছিলের ডাক দেয় বিজেপি। তৃণমূলের অভিযোগ, সেই মিছিল থেকেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বাঁশ নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য দফতরে ঢোকার চেষ্টা করে। ঢিল ছোড়ার পাশাপাশি ফেস্টুন ছেঁড়ার মতো ঘটনাও ঘটে।

এদিকে, যাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের এত অভিযোগ, সেই ত্রিপুরার বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত দেব তৃণমূলের এই সফরকে ‘নাটক মঞ্চস্থ করা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের প্রতিনিধিদল যেন ত্রিপুরায় আসবার সময় আহত ও রক্তাক্ত খগেন মুর্মুর ছবিটা সঙ্গে নিয়ে আসে!

উল্লেখযোগ্যভাবে, নাগরাকাটার ঘটনার পরদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে অরূপ চক্রবর্তী মনে করিয়ে দেন, যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত হয়েছিলেন, তখন তাঁকে নিয়ে টিটকিরি দেওয়া হয়েছিল।