মিলে গিয়েছিল ৯/১১ হামলা, রাজকুমারী ডায়ানার মৃত্যু! অন্ধ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সালের পূর্বাভাস কি সত্যি হবে?

বাবা ভাঙ্গা—একজন অন্ধ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা, যাঁর একাধিক ভবিষ্যদ্বাণী নাকি বাস্তবে মিলে গিয়েছে, তা যুদ্ধবিগ্রহই হোক বা জঙ্গি হানা! ১৯৯৬ সালে তাঁর মৃত্যুর আগে তিনি ৫০৭৯ সাল পর্যন্ত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। যদিও এর কোনও লিখিত দলিল নেই, তবুও তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলি মুখে মুখে প্রচলিত এবং একইসঙ্গে ভয়ঙ্কর ও রোমাঞ্চকর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন অনেকেই ২০২৬ সাল সম্পর্কে বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে জানতে আগ্রহী। আসুন জেনে নেওয়া যাক আগামী বছরগুলিতে তিনি বিশ্বের জন্য কী কী পূর্বাভাস দিয়ে গেছেন।
২০২৬-২০২৮: বিশ্ব জুড়ে বড় পরিবর্তন
শোনা যায়, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে:
ক্ষুধা নির্মূল: তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন যে এই সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা নির্মূল করা হবে।
চীনের উত্থান: চীন অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে, যা বিশ্ব-নেতৃত্বে বড় বদল আনবে।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ: আগামী বছরগুলিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যাওয়ার আশঙ্কাও তিনি প্রকাশ করেছেন।
বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি: বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
যে ভবিষ্যদ্বাণীগুলি মিলে গিয়েছিল
অনেকের দাবি, বাবা ভাঙ্গার দেওয়া বেশ কিছু ভবিষ্যদ্বাণী নাকি সত্যিই ফলে গিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে:
পারমাণবিক সাবমেরিন কুরস্ক বিপর্যয়
আইসিস-এর উত্থান
সিরিয়ার গ্যাস আক্রমণ
ব্রেক্সিট
৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা
রাজকুমারী ডায়ানার মৃত্যু
ভারতকে নিয়ে ভয়ানক পূর্বাভাস
ভারত সম্পর্কে বাবা ভাঙ্গার যেসব ভবিষ্যদ্বাণী বিশেষ আলোচিত, তা মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি ভারতে ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস এবং রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছেন। বাবা ভাঙ্গার মতে, ভারতের অনেক শহর জল সংকটের মুখোমুখি হবে, যা দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রসঙ্গত, গত এক বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় নজিরবিহীন প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলছে।
বিজ্ঞানীরা কী বলছেন?
তবে, বিজ্ঞানীরা বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেন। এর প্রধান দুটি কারণ হল: প্রথমত, তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলির কোনও লিখিত রেকর্ড নেই। দ্বিতীয়ত, তাঁর বেশিরভাগ পূর্বাভাস একটি নির্দিষ্ট সময়কে মাথায় রেখে করা হয়েছিল, যা কখনও মিলে যায়, আবার কখনও নাও মিলতে পারে।
তাই এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলি বিশ্বাস করা বা না করা—এই ভার মানুষের হাতেই ছাড়া হয়।