বৃষ্টির মধ্যেই জ্বলে উঠল ১০৮ প্রদীপের আলো! সন্ধিপূজা দেখতে শোভাবাজার রাজবাড়িতে উপচে পড়ল ভিড়, কী এর মাহাত্ম্য?

মহাসপ্তমী ও মহাষ্টমীর পর আজ দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সন্ধিপূজা সম্পন্ন হলো। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট—এই দুই তিথির সংযোগস্থলে মোট ৪৮ মিনিট ধরে হয় এই বিশেষ পূজা। মঙ্গলবার অষ্টমী তিথি শেষে শোভাবাজার রাজবাড়ি এবং বেলুড় মঠ-সহ বাংলার সব মণ্ডপে এই পবিত্র আচার পালিত হলো।

সন্ধিপূজার মাহাত্ম্য: কেন এটি এত পবিত্র?
পুরাণ মতে, এই দুই তিথির সন্ধিক্ষণেই দেবী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুর সেনাপতিকে বধ করেন। এই কারণেই দেবী ‘চামুণ্ডা’ নামেও পরিচিত হন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই বিশেষ ক্ষণেই দেবী কালিকার জন্ম। তিনি রক্তবীজকে বিনাশ করে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির জয় নিশ্চিত করেন।

পূজার আচার: দেবীর সর্বশক্তিমান ও মহাশক্তিধারিণী রূপের আরাধনা হয় এই ক্ষণে। ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো, ১০৮টি পদ্ম বা বেলপত্র অর্পণ এবং হোমযজ্ঞের মাধ্যমে বৈদিক নিয়মে এই পুজো সম্পন্ন হয়। এই মুহূর্তকে ঘিরেই ভক্তদের মধ্যে থাকে গভীর ভক্তি ও আধ্যাত্মিক উত্তেজনা।

শোভাবাজার রাজবাড়িতে ভিড়
১৭০০ শতকে রাজা নবকৃষ্ণ দেবের হাতে প্রতিষ্ঠিত শোভাবাজার রাজবাড়িতে (যা ১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধের পর শুরু হয়েছিল) সন্ধিপূজা দেখার টানে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমিয়েছিলেন। রাজবাড়ির তরফে ভিড় সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিছু দর্শনার্থী ভিতরে প্রবেশের সুযোগ পান, আর যারা ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢুকতে পারেননি, তাঁদের জন্য বাইরে বসার বন্দোবস্ত করা হয়।

বেলুড় মঠের অনন্য পরিবেশ
স্বামী বিবেকানন্দের উদ্যোগে ১৯০১ সালে বেলুড় মঠে দুর্গাপূজা শুরু হয়। সেই সময় থেকেই এখানে সন্ধিপূজার মাহাত্ম্য অনন্য।

আধ্যাত্মিক আবহ: বেলুড় মঠের গম্ভীর ও শান্ত পরিবেশে গঙ্গার ধারে যখন ১০৮টি প্রদীপের আলো একসঙ্গে জ্বলে ওঠে, তখন এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি হয়। হাজার হাজার ভক্ত এই নীরব প্রার্থনায় যোগ দেন।

সর্বধর্ম সমন্বয়: এখানে সন্ধিপূজা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বিবেকানন্দ-প্রবর্তিত সর্বধর্ম সমন্বয়ের বাণীরই প্রতিফলন—যেখানে দেবী শক্তি বিশ্বজনীন মাতৃরূপে পূজিত হন।

অষ্টমীর বৃষ্টি ও আনন্দ
অষ্টমী তিথির দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি নামে হাওড়া-সহ হুগলির একাধিক এলাকায়, যা ভ্যাপসা গরম থেকে খানিকটা স্বস্তি দিয়েছে। পুজো উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের মতে, এই বৃষ্টি আবহাওয়াকে আরও ঠান্ডা করেছে। বৃষ্টি শেষে দ্রুত ছন্দে ফেরে পুজো।