মা আসছেন! ঢাকের তালে রাতারাতি বদলে গেল বাংলার ছবি, দেখুন অবিশ্বাস্য জনস্রোত।

শারদ উৎসবের অন্যতম প্রধান দিন মহা অষ্টমী উপলক্ষ্যে আজ গোটা বাংলা জুড়ে সৃষ্টি হল এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের। রাজ্যের ছোট-বড় মন্দির থেকে শুরু করে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ভিড় জমালেন লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থী। কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, কোলাঘাট, পূর্ব মেদিনীপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উৎসবের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
ভোর থেকেই শুরু হয়ে যায় দেবীর আরাধনা। বেলপাতা আর ফুল হাতে নিয়ে পুস্পাঞ্জলি দিতে মণ্ডপে মণ্ডপে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। কলকাতার মণ্ডপগুলিতে ভিড় সামলাতে একাধিক ধাপে অঞ্জলির ব্যবস্থা করা হয়। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ঢাকের তাল আর স্তোত্র পাঠের ধ্বনি, যা উৎসবের আবহকে আরও জমজমাট করে তুলেছে।
এবারের দুর্গাপূজায় মুর্শিদাবাদে অরুণাচল দুর্গাপূজা কমিটির মতো মহিলা পরিচালিত উদ্যোগ বিশেষ নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, কোলাঘাটের পুলাশিতা গ্রামের পঞ্চম বর্ষের গ্রামীণ থিমের মণ্ডপটি স্থানীয়দের হাতে তৈরি হওয়ায় আলাদা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে কাঁথি নন্দনিক দুর্গোৎসব কমিটির মণ্ডপেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই মণ্ডপে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসার কথা রয়েছে।
শুধুমাত্র বাংলা নয়, অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়াতেও দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে বিপুল ভক্তিভরে। পুরোহিতদের মতে, এই দিনে দেবী দুর্গার আরাধনা করলে ভয়, দুঃখ এবং দারিদ্র্য দূর হয়, জীবন ভরে ওঠে সমৃদ্ধি ও বিজয়ে। দেবী দুর্গার অসুরদলনি রূপ এবং মা মহাগৌরী (শুদ্ধতা ও শান্তির প্রতীক) রূপে তাঁকে স্মরণ করে ভক্তরা নিজেদের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলার বার্তা পান। মহা অষ্টমী তাই কেবল একটি পূজা নয়, এটি অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক।