“২৪১ কোটি আয়, ৩০ কোটি GST!” –বিহারে বিস্ফোরক পিকে!, আক্রমণ করলেন বিজেপিকে

রাজনৈতিক কৌশলগত পরামর্শদাতা থেকে জন সুরজ দলের প্রতিষ্ঠাতা, প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) বিপুল আয় নিয়ে জল্পনার শেষ ছিল না। অবশেষে সোমবার বিহারের একটি জনসভা থেকে নিজেই তাঁর আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ্যে এনেছেন পিকে। বিরোধীদের কটাক্ষের জবাব দিতে গিয়ে স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেছেন, “আমি চোর নই।” একইসঙ্গে তিনি বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনে রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন।

২৪১ কোটি টাকার আয়ের উৎস:

রাজনৈতিক প্রচারের জন্য পিকে কোথা থেকে বিপুল টাকা পাচ্ছেন, এই প্রশ্ন বারবার তুলেছে বিজেপি। নেতা সঞ্জয় জয়সওয়াল কটাক্ষ করার পর তারই জবাব দিলেন প্রাক্তন ভোটকুশলী।

একসময় রাজনৈতিক দলগুলিকে ভোটে জেতার কৌশল বাতলে দেওয়া ছিল তাঁর প্রধান পেশা। পরে সেই কাজ ছেড়ে দিলেও বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তিকে কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে থাকেন তিনি। প্রশান্ত কিশোরের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলিকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য তিনি এক পয়সাও পারিশ্রমিক নিতেন না।

তবে জন সুরজ দল প্রতিষ্ঠার পরে তিনি ফি নিতে শুরু করেন। বিহারবাসীকে তিনি জানান, গত তিন বছরে বিভিন্ন কোম্পানি এবং ব্যক্তিকে পরামর্শ দিয়ে তাঁর মোট আয় হয়েছে ২৪১ কোটি টাকা।

আয়কর ও জিএসটি প্রদানের হিসাব:

নিজেকে স্বচ্ছ প্রমাণ করে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “প্রকাশ্যে নিজের আয়-ব্যয়ের হিসেব দেওয়ার ক্ষমতা রাখি।”

তিনি জানান, এই সময়ে তিনি ২০ কোটি টাকা আয়কর দিয়েছেন।

জিএসটি বাবদ তিনি দিয়েছেন ৩০,৯৮,৬৮,৭৬৪ টাকা, যা তাঁর মোট আয়ের প্রায় ১৮ শতাংশ।

পাশাপাশি, জন সুরজ দলের তহবিলে তিনি ৯৮.৯৫ কোটি টাকা দান করেছেন বলেও ঘোষণা করেন।

উপমুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ:

নিজের আয়ের হিসাব দেওয়ার পরই প্রশান্ত কিশোরের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী। সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনে পিকে বলেন, “সম্রাট চৌধুরীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা উচিত। ১৯৯৫ সালের একটি খুনের মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু আদালতে ভুয়ো নথি দিয়ে নিজেকে নাবালক প্রমাণ করে মুক্তি পান।”

পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন সম্রাট চৌধুরীও। তিনি প্রশান্ত কিশোরকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে তোপ দেগে বলেন, “কোথায় কী বলতে হয় জানেন না। নিজের দুর্নীতি ঢাকতে অন্যের উপরে দোষ চাপাচ্ছেন। আগে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিন।” পিকের দেওয়া এই তথ্য এবং পালটা অভিযোগ-পালটা অভিযোগ বিহারের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।