গাজ়ার পাশে দাঁড়াতে নীরব কূটনীতি? ১১ বছরে ৮ কোটি ডলার সাহায্য, মোদী জমানায় কেন বাড়ল
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার একদিকে যেমন ইজ়রায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে, তেমনই রাষ্ট্রপুঞ্জে স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্রগঠনের প্রস্তাবে সরাসরি সমর্থন জানিয়ে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করেছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে এক বিস্ময়কর আর্থিক তথ্য।
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১১ বছরে ভারত প্যালেস্তাইনের উন্নয়নে প্রায় আট কোটি আমেরিকান ডলার (৮০ মিলিয়ন ডলার) সাহায্য করেছে। টাকার অঙ্কে এই পরিমাণ প্যালেস্তাইনকে গত ৬৫ বছর ধরে করা মোট সাহায্যের প্রায় দ্বিগুণ। কেন মোদী জমানায় হঠাৎ প্যালেস্তাইনকে এত বিপুল অর্থ সাহায্য দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
‘ভারসাম্যের’ কূটনীতিতে ভারত:
সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, ইজ়রায়েলের চাপের কারণে রাষ্ট্রপুঞ্জের UNRWA (জাতিসংঘের প্যালেস্টাইন শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা) এজেন্সির কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে নয়াদিল্লি দ্বিপাক্ষিক এবং এই সংস্থার মাধ্যমেও মানবিক সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ভারত প্রতি বছর UNRWA-কে ৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেয় এবং ২০২০-২১ সাল থেকে মোট ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফ্রান্স যখন প্যালেস্তাইনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব আনে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে ইজ়রায়েলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও ভারত সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানায়। সেই প্রস্তাবে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই একমাত্র পথ এবং গাজ়া ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক মিলিয়ে স্বাধীন প্যালেস্তাইন গঠন করতে হবে— কোনও দখলদারি বা উচ্ছেদ চলবে না।
তবে একই সঙ্গে, ভারত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা করে এবং বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, “ইজ়রায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।”