বিদেশে হিট অ্যান্ড রান, ভারতে গা ঢাকা: পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত হওয়া সত্ত্বেও মুম্বইয়ে পালিয়ে আসা সেই অভিযুক্তকে ধরল US পুলিশ

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ভারতে পালিয়ে থাকার পর অবশেষে বিচারের মুখে দাঁড়ালেন ৫৪ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক গণেশ শেনয়। ২০০৫ সালে আমেরিকায় এক প্রাণঘাতী গাড়ি দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শেনয়কে গত ২৬ সেপ্টেম্বর (মার্কিন সময়) ম্যানস্লটার ইন দ্য সেকেন্ড ডিগ্রি (Manslaughter in the Second Degree) অভিযোগে নাসাউ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির আদালতে হাজির করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল সকাল ৬টা নাগাদ। নাসাউ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (DA) অ্যান টি ডনেলির তথ্য অনুযায়ী, গণেশ শেনয় দ্রুত গতিতে রেড লাইট উপেক্ষা করে নিউইয়র্কের হিকসভিলের এক মোড়ে ফিলিপ মাস্ট্রোপোলো (৪৪)-এর ক্যাডিলাক গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারেন। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ফিলিপের গাড়িটি ছিটকে প্রায় ৬৫ ফুট দূরে একটি ফ্রেইটলাইনার বক্স ট্রাকে গিয়ে ধাক্কা মারে এবং ঘটনাস্থলেই ওই স্বামী ও দুই সন্তানের বাবার মৃত্যু হয়।
পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত হওয়া সত্ত্বেও পলায়ন:
দুর্ঘটনার মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই শেনয় তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা দাবি করেন যে সিগন্যালটি সবুজ ছিল। এরপরই কর্তৃপক্ষ তাঁর নিউইয়র্ক স্টেট ড্রাইভার্স লাইসেন্স এবং ভারতীয় পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা সত্ত্বেও তিনি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মুম্বইয়ে পালিয়ে আসেন। সেই থেকে তিনি ভারতেই গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন।
ডি এ ডনেলি নিশ্চিত করেছেন, এই প্রত্যর্পণ ২০১৭ সালের পর ভারত থেকে আমেরিকায় প্রথম সরকারি প্রত্যর্পণের ঘটনা। ডনেলি বলেন, “দু’দশক ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এড়িয়ে চলার পর, অবশেষে আমার অফিস এই আসামিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনেছে। ফিলিপের পরিবার এই লোকসানের যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছে, জেনেও যে দায়ী ব্যক্তি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে লুকিয়ে আছে।”
গণেশ শেনয় আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তাঁকে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে তাঁকে পুনরায় আদালতে হাজির হতে হবে। যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাঁর ৫ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।