মোবাইল-যুগে পৌরাণিক গাঁথা বিস্মৃত, ঠিক তখনই ‘দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ’ থিম করে নজির গড়ল বর্ধমান!

বর্তমান মোবাইল-নির্ভর জীবনে যখন রামায়ণ, মহাভারতের মতো মহান পৌরাণিক কাহিনিগুলি নতুন প্রজন্মের কাছে প্রায় অচেনা, ঠিক সেই সময় এক গভীর সাংস্কৃতিক দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে এল বর্ধমান খালুইবিল মাঠ গুড শেড রোড জিটি রোড সার্বজনীন পুজো কমিটি। তাদের ৬৩তম বর্ষের পুজোয় থিম ভাবনা যেন বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাওয়া শৈশবের কাহিনিগুলিকে নতুন করে বাঁচিয়ে তুলল।

বাঁশের শয্যায় দ্বাপর যুগ: বর্ধমানের শিল্পীদের চমক
দ্বাপর যুগের ইতিহাসের এক মর্মস্পর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ—কেই শৈল্পিক মুন্সিয়ানায় ফিরিয়ে এনেছে এই কমিটি। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মণ্ডপ সজ্জায় নেই কোনো কাপড় বা বাটামের ব্যবহার। পূর্ব বর্ধমান জেলার শিল্পীরাই তাদের নিপুণ হাতের জাদুতে শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব বাঁশ ব্যবহার করে মণ্ডপটি তৈরি করেছেন। প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বাজেটে নির্মিত এই মণ্ডপটি বর্তমানে বর্ধমানবাসীর মন জয় করে নিয়েছে।

মণ্ডপে প্রবেশ করলেই আপনি চলে যাবেন বাংলার এক শান্ত গ্রাম্য পরিবেশে, যেখানে চারিদিকে শুধু প্রকৃতির ছোঁয়া। কিন্তু মণ্ডপের যত ভিতরে যাওয়া যাবে, ততই আপনি হারিয়ে যাবেন অন্য এক জগতে—একদিকে গ্রাম বাংলার চিত্র, অন্যদিকে মহাভারতের কালজয়ী কাহিনি একই সঙ্গে ফুটে উঠেছে এই শৈল্পিক উপস্থাপনায়।

শুধুমাত্র পুজো নয়, ঐতিহ্যের প্রতি নীরব আহ্বান
পুজোর উদ্যোক্তারা জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল বর্ধমান জেলার স্থানীয় শিল্পীদের কাজ তুলে ধরা। তাই পুরো মণ্ডপ তৈরি করেছেন স্থানীয় শিল্পীরাই।

এই থিম ভাবনা শুধু একটি পুজো মণ্ডপ নয়, এটি যেন বর্তমান প্রজন্মকে ঐতিহ্যের প্রতি ফেরানোর এক নীরব আহ্বান। প্রযুক্তির ভিড়ে যখন শিকড়ের টান আলগা, ঠিক তখনই বাঁশের কারুকার্যে বর্ধমানের শিল্পীরা প্রমাণ করলেন যে, হারানো শৈশবের পৌরাণিক কাহিনিগুলির আবেদন আজও কত গভীর ও শক্তিশালী।

এই পুজো মণ্ডপ শুধু শিল্পীদের কাজকেই তুলে ধরল না, সেই সঙ্গে মহাভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্বকে চোখের সামনে দেখে নতুন করে শেখার সুযোগ পেলেন দর্শক ও নতুন প্রজন্ম।