রোবট’ নয়, এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেখছে ভিড়! এক ঘণ্টাও লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না! কলকাতার কোন পুজোয় এই ব্যবস্থা?

কলকাতার দুর্গাপুজোর মানচিত্রে চেতলা অগ্রণী ক্লাব সবসময়ই প্রথম সারিতে। রাজ্যের মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের এই পুজো তার শৈল্পিক সজ্জা, মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা এবং অভিনব মণ্ডপের জন্য প্রতি বছরই লাখো মানুষের ভিড় টানে। তবে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই এ বছর এক নতুন ও নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে চেতলা অগ্রণী ক্লাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা।

AI ক্যামেরা বসানো: এক ঘণ্টাও লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না!
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে এই প্রথমবার চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপে এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে মোট ১৬টি এআই-পরিচালিত নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

এই ক্যামেরাগুলি কেবল লাইনে দাঁড়ানো দর্শনার্থীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে তাই নয়, মণ্ডপ প্রাঙ্গণের প্রতিটি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। কোনো অস্বাভাবিকতা বা সমস্যা সৃষ্টি হলেই সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোক্তাদের কাছে অ্যালার্ট পৌঁছে যাচ্ছে।

ষষ্ঠীতেই প্রায় ৪ লাখ ভিড়: ১৫ মিনিটে অসুস্থকে চিকিৎসা!
উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নজরদারির ফল মিলেছে হাতেনাতে। ষষ্ঠীর রাত ১২টা পর্যন্ত চেতলা অগ্রণীতে প্রায় ৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৭১০ জন দর্শনার্থী পা রেখেছেন। ভিড়ের চাপ সত্ত্বেও, দর্শনার্থীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে থাকতে হয়নি। সবচেয়ে কম অপেক্ষার সময় ছিল ৫৫ মিনিট, এবং সর্বোচ্চ ভিড়ের সময়ও লাইন দিতে হয়েছে মাত্র ১ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট।

কেবল ভিড় নিয়ন্ত্রণ নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও এআই প্রযুক্তি ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে। জানা গিয়েছে, ষষ্ঠী পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন দর্শনার্থী অসুস্থ হয়েছেন। তবে সকলকে মাত্র ১৭ মিনিটের গড় সময়ের মধ্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, এআই নির্ভর নজরদারির কারণেই এত দ্রুত সমস্যার স্থান চিহ্নিত করে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত এই ভিড় আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেতলা অগ্রণীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্যান্য বড় পুজোগুলিকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে।

অন্যদিকে, নবপত্রিকা স্নান: মহা-সপ্তমীর শুভ সূচনা
কলকাতার বিভিন্ন বারোয়ারি, আবাসন এবং বাড়ির পুজোয় সপ্তমীর সকালে শুরু হলো চিরাচরিত প্রথা নবপত্রিকা স্নান। গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চলে এই স্নান পর্ব।

শাস্ত্র মতে নবপত্রিকা হল দেবী দুর্গার নয়টি রূপের প্রতীক। নয়টি গাছের ডাল দিয়ে একটি কলাগাছকে সাজিয়ে নতুন শাড়ি পরিয়ে নববধূর মতো করে গঙ্গায় স্নান করানো হয়। এরপর নবপত্রিকাকে মণ্ডপে নিয়ে এসে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমেই শুরু হয় মহাসপ্তমীর আরাধনা। এই নবপত্রিকাকেই সাধারণ্যে ‘কলাবউ’ বলে উল্লেখ করা হয়। ঘাটগুলিতে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উপস্থিত ছিল।