রুপোর পালকিতে কলাবউ! কাটোয়ার সাহাবাড়িতে এমন প্রথা কেন? জেনে নিন দেবীর বাপের বাড়ির রুদ্ধশ্বাস গল্প!

শুরু হয়ে গেল বাঙালি শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। আজ, ষষ্ঠীর পুণ্য তিথিতে দেবীর বোধন। আজই সপরিবারে মা দুর্গার পিতৃগৃহে আগমনের দিন। বোধনের পরই হল দেবীর অধিবাস। প্রাচীন রীতি মেনে বিল্ববৃক্ষের (বেল গাছ) নিচে দেবীর আরাধনা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী, সরস্বতী-সহ সপরিবারে মা দুর্গা একরাত সেখানেই অবস্থান করবেন। আগামীকাল, সপ্তমীর সকালে তিনি পা দেবেন বাপের বাড়িতে, মণ্ডপে।
দেবীপক্ষের সূচনাতেই শহরজুড়ে নেমে এসেছে উৎসবের ঢল। উত্তর থেকে দক্ষিণ, শহরের আনাচে-কানাচে এখন কেবলই প্যান্ডেল হপিংয়ের ভিড় আর আলোর রোশনাই।
৯৬তম বর্ষে ‘শিকড়ের সন্ধানে’ হিন্দুস্তান পার্কের চমক
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম সেরা পুজো, হিন্দুস্তান পার্কের পুজো এবার ৯৫তম বর্ষে পদার্পণ করল। এই বছর তাদের থিম হল – ‘লোকজ’, যার মূল ভাবনা ‘শিকড়ের সন্ধানে’। মণ্ডপ সজ্জা এবং প্রতিমায় লোকশিল্প ও বাংলার মাটির গন্ধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পুরনো ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির এক অসাধারণ মিশ্রণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে এই মণ্ডপে। সেরা পুজো দেখার তালিকায় এই মণ্ডপটি রাখতেই হবে বলে মনে করছেন দর্শকরা।
ঐতিহ্যের আলো: কাটোয়ার সাহাবাড়িতে রুপোর পালকিতে কলাবউ স্নান
কাটোয়া: দুর্গাপূজা মানেই ঐতিহ্য আর পরম্পরা। সেই পুরনো রীতি বজায় রেখেই কাটোয়ার তাঁতী পাড়ার সাহাবাড়ির পুজোয় এক ঐতিহ্যবাহী প্রথা দেখা গেল। এই বাড়ির রীতি অনুযায়ী, রুপোর পালকিতে চাপিয়ে নবপত্রিকা অর্থাৎ কলাবউকে কাটোয়ার ভাগীরথী ঘাটে স্নান করানো হয়। সেই প্রথা মেনেই নতুন কলাবউকে রুপোর পালকিতে চাপিয়ে ভাগীরথীর ঘাটে স্নান করানো হলো। এরপর পালকিতে করেই তাঁকে মন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে ভাগীরথীর ঘাটে সকাল থেকেই ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়াও বিভিন্ন ঘাটে ধামসা-মাদলের তালে মহিলাদের নৃত্যের দৃশ্যও ছিল চোখে পড়ার মতো।