প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিলম্বের কালো ছায়া! কেন HAL-কে ঢেলে সাজানো হচ্ছে? AMCA যুদ্ধবিমান তৈরিতে দেরি নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার!

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এবং বিমান বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীতে সময়মতো বিমান ও হেলিকপ্টার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বর্তমানে HAL-এর ঝুলিতে রয়েছে প্রায় ২.৭ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল অর্ডার, যা তাদের বার্ষিক আয়ের প্রায় আট গুণ। এই বিপুল অর্ডারের বোঝাই কোম্পানির কর্মদক্ষতাকে প্রভাবিত করছে, যার ফলে ডেলিভারিতে দেখা দিচ্ছে বিলম্ব। ভারতীয় বিমান বাহিনী বিশেষত হালকা যুদ্ধ বিমান (LCA) সরবরাহে এই বিলম্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক উদ্বেগের বিষয়।
পুরাতন পরিকল্পনা ফিরে আসছে?
কোম্পানির এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার একটি বহিরাগত পরামর্শদাতা সংস্থাকে নিযুক্ত করেছে এবং অভ্যন্তরীণভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, HAL-এর পুরনো একটি পরিকল্পনা এবার বাস্তবায়িত হতে পারে।
কয়েক বছর আগে HAL-কে তিনটি পৃথক কোম্পানিতে বিভক্ত করার কথা ভাবা হয়েছিল:
১. একটি কোম্পানি: শুধু জেট বিমান তৈরি করত।
২. দ্বিতীয় কোম্পানি: হেলিকপ্টার তৈরি করত।
৩. তৃতীয় কোম্পানি: মেরামত ও পরিষেবা দিত।
তখন যথেষ্ট অর্ডার না থাকায় সেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অর্ডারের বিপুল চাপ সামলাতে ও ডেলিভারির বিলম্ব কমাতে এই ধরনের বিভাজনই একমাত্র সমাধান হতে পারে বলে সরকার মনে করছে।
HAL-কে কেন রূপান্তরিত করতে হবে?
এত বড় আকারের কার্যক্রম পরিচালনা করার পরেও HAL তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, AMCA (অ্যাডভান্সড মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট)-এর মতো নতুন প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান তৈরিতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারছে না। এর ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সময়সূচিতে বিলম্ব হতে পারে।
সরকার মনে করছে, বর্তমান কাঠামোয় এই বিশাল অর্ডার পূরণ করা কঠিন। তাই কাজ দ্রুত ও ভালোভাবে সম্পন্ন করার জন্য কোম্পানিকে পুনর্গঠন করা জরুরি।
বর্তমানে সরকার ও HAL-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মিলে এই রূপান্তরের একটি রোডম্যাপ তৈরি করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোম্পানিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে প্রতিটি অংশের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দিলে উৎপাদন দ্রুত হবে এবং ডেলিভারির বিলম্ব কমবে। এই পরিবর্তন কেবল HAL-এর দক্ষতাই বাড়াবে না, ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতাকেও শক্তিশালী করবে।