ইউনেসকো হেরিটেজ বিশ্বভারতীতে ‘কাঁচা কাজ’! অনুমতি না নিয়েই রাজ্যের জমিতে তোরণ, উপাচার্যকে নিয়ে সরব আশ্রমিকেরা

পুজোর উৎসবের মাঝেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ইউনেসকো ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ তকমা পাওয়া বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি তোরণ নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ এনেছে রাজ্য সরকার। অভিযোগ, চারটি প্রস্তাবিত তোরণের মধ্যে তিনটি তোরণই তৈরি হচ্ছিল রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের (PWD) জমিতে, তাও আবার কোনো পূর্ব অনুমতি না নিয়েই।
পূর্ত দপ্তরের আপত্তিতে কাজ আপাতত স্থগিত থাকলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।
তোরণ বিতর্ক: উপাচার্যের সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন
সদ্য উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রবীর কুমার ঘোষ। তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রখ্যাত শিল্পী সুরেন্দ্রনাথ করের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে চারটি তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এই কাজে যুক্ত থাকার কথা ছিল কলাভবনের অধ্যাপক, পড়ুয়া ও শিল্পীদের।
কিন্তু চারটি তোরণের মধ্যে দমকল বিভাগের সামনের রাস্তার তোরণটি ছাড়া বাকি তিনটি— শান্তিনিকেতন রোডের উপর কবিগুরু হস্তশিল্প মার্কেটের কাছে, রতনকুঠি গেস্ট হাউজ সংলগ্ন রাস্তায় এবং কালিসায়র মন্দির সংলগ্ন রাস্তায়— তৈরি হচ্ছিল রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের অধীনে থাকা জায়গায়।
পূর্ত দপ্তরের কড়া পদক্ষেপ
অভিযোগ, বিশ্বভারতীর ইঞ্জিনিয়াররা রাজ্য সরকারের কাছে কোনো রূপ অনুমতি না নিয়েই নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন। পূর্ত দপ্তরের তরফে অনুমতি দেখতে চাইতেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কাজ স্থগিত করে দিতে বাধ্য হয়।
ইতিমধ্যে বোলপুর পূর্ত বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার রাজকুমার বাঁঠিয়া সরাসরি মহকুমাশাসক অয়ন নাথ, বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়াল-সহ পূর্ত বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তোরণ নির্মাণের জন্য কেন রাজ্য সরকারের জমিতে অনুমতি নেওয়া হলো না, সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে পূর্ত দপ্তর।
আশ্রমিকদের প্রতিক্রিয়া: ‘এত কাঁচা কাজ কেন?’
বিশ্বভারতীর এই পদক্ষেপ নিয়ে সরব হয়েছেন স্বয়ং আশ্রমিক ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারের বর্ষীয়ান সদস্যেরাও।
আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, “এত কাঁচা কাজ কেন করল বিশ্বভারতী! অনুমতি নিয়েই তো কাজ করতে হত। জানি না, এই কর্তৃপক্ষ কী করতে চাইছেন।” আরেক আশ্রমিক কল্পিকা মুখোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “বিশ্বভারতী আর পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়, তোরণের কী প্রয়োজন জানি না। তবে অনুমতি নিয়েই নির্মাণ করলে ভালো।”
ফের সংঘাতের ছায়া
উল্লেখ্য, বিশ্বভারতী হলো পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিদর্শক স্বয়ং দেশের রাষ্ট্রপতি এবং আচার্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে রাজ্য সরকারের সরাসরি অভিযোগের ঘটনা এই প্রথম। এর আগে তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সময় নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের জমি বিতর্কেও রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত চরমে উঠেছিল।
এবার উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষের সময়ে তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফের সংঘাতের আবহে তোলপাড় শান্তিনিকেতন। এখন দেখার, পুজোর ছুটি শেষে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তোরণ নির্মাণের জন্য রাজ্যের কাছে লিখিত অনুমতি জমা দেন কিনা।